
আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্যের, বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন। সকল ক্ষেত্র থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে, যেখানে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকবে না। সব মানুষই দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিত হবে। সাড়ে পনেরটি বছর আওয়ামীলীগদের হাত মানুষের রক্তে ভেজা। আমাদের নেতা কর্মীদের টিকেট ছাড়াই বিদেশ যেতে বলেছেন। এবার খালে বিলে নদী নালা দিয়ে তারাই টিকেট ছাড়াই পালিয়েছে। দেশটাকে লুটে পুটে খাইলেন। বিদেশকে সমৃদ্ধ করলেন। দেশের কোন মেয়েকেই ছেলে জন্য পছন্দ করতে পারেন নি শেখ হাসিনা। তিনি নাকি একাই দেশ প্রেকিম।
মঙ্গলবার দুপরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, অফিস-আদালত থেকে ঘুষ-দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধ করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। আয়না ঘরে বন্দী রেখে জঙ্গিবাদের নাটক করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের নামে বিনা ভোটে এমপিদের পাশ করানো হয়েছে, নিশি রাতে ভোট হয়েছে এবং ২০২৪ সালে আমি আর ডামির নির্বাচন হয়েছে। পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার আমাদের দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করে সীমান্ত চৌকিদার বিজিবি করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করা হবে না। মসজিদ যদি পাহারা দেয়া না লাগে তবে মন্দিরও পাহারা দেয়া লাগবে না, সকলেই শান্তিতে সহাবস্থান করবে। তিনি এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অত্যাচার, বাড়িঘর লুটপাটের আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কেউ নারীদের ইজ্জতকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না, তাদের পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। তিনি গাইবান্ধায় একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দাবি জানান বর্তমান সরকারের কাছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে শাপলা চত্বরে রক্তের বন্যা বয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। সে বিচার আজও হয়নি। এই ঘটনায় নাটক সাজিয়ে তার দায়ভার বিরোধীদলের উপর দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর জামায়াতের কোন নেতাকর্মী কোন নির্যাতন ও সম্পত্তি দখল করেনি। যদি এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা জামায়াতের আমীর মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ডা. আব্দুর রহীম সরকার, সিনিয়র নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ সরকার, জেলা সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার, সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
এদিকে কর্মী সম্মেলন সফল করতে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে েেনতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে এই সমাবেশে যোগ দেয়। ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সম্মেলন মাঠে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর এই মাঠে প্রকাশ্যে কর্মী সম্মেলন করছে জামায়াত। ২০০২ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা শহীদ দেলওয়ার হোসেন সাঈদী এই মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর এই মাঠে বা আর কোথাও প্রকাশ্য সমাবেশ করতে পারেনি জামায়াত।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution