
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১১, ২০২৬, ৪:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৬, ২০২৫, ৬:৩৪ পি.এম
খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজ ফসলের সমারোহ

দেশের উত্তরের সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক সময়ের খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী শুকিয়ে এখন সবুজ ফসলের মাঠ পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর চরে জেগে ওঠা পলিমাটিতে বাম্পার ফলন উৎপাদন করছে। কেউ কেউ রোপনকৃত ফসলগুলোর বাম্পার ফলন হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন চরাঞ্চলের চাষিরা।
এসব নদ-নদীর বুকে তীরবর্তী চাষিরা টানা দেড় যুগ ধরে বোরো ধান, ভুট্টা, বাদাম, কলা, মরিচ, বেগুন, টমেটো, বাঁধা -কপি, সরিষা, আলু করলাসহ নানা মূখী ফসলের চাষাবাদ করে আসছেন। নদীতে পানির ধারণক্ষমতা না থাকায় বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিপাতে বন্যা হয়ে যায়। ফলে বছরে দুই বার চাষবাদ করা গেলেও এখন আবহাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিন-চার ফসল ফলাতে পারছে কৃষক। এতে করে বর্ষা কাটিয়ে খরা মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষক।
বয়োবৃদ্ধরা জানান, এক থেকে দেড় যুগ আগেও পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন ছিল ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীতে। এই দুই নদীর প্রবল স্রোতের কারণে আঁতকে উঠতো নদী পাড়ের হাজারও বাসিন্দা। এখন পানি না থাকায় ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীতে ছোট বড় প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক চরের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার সময় দুই-তিন মাস বাদে বছরের বাকিটা সময় নদীর বুক চিরে পুরোদমে চলছে চাষাবাদ। সীমান্তঘেঁষা এই নদী দুইটি এখন অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র আয়ের প্রধান উৎস। নদী শুকিয়ে যাওয়া এখন জীবন-জীবিকায় কৃষি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এ দিকে ধরলা ও বারোমাসিয়ার বুকে চাষাবাদ করে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও নদীতে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ডিঙ্গি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী জেলে পরিবারগুলো কঠিন দুশ্চিন্তায় পরেছেন। এক সময় ধরলা ও বারোমাসিয়াসহ বিভিন্ন নদনদীতে নানান প্রজাতির মাছ শিকার করে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। পানি প্রবাহ না থাকায় এসব মাছের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে এখানকার জেলে পরিবাররা পেশা হারিয়ে অনেকেই দিনমজুর, রিতশাচালক, মালিসহ নানা বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত হলেও কিছু জেলে পরিবার নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে চরম দুচিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষ্ণানন্দ এলাকার চাষি কবিদুল ইসলাম জানান বারোমাসিয়ার তীরে দুই বিঘা জমিতে বেগুনের চাষাবাদ করেছি। এই বেগুন নমল বিশ দিন পর ফলন আসবে। শিমুলবাড়ী এলাকার ভুট্টা চাষি জমির উদ্দিন ও আব্দুল হানিফ জানান, তারা প্রত্যেকেই ধরলার বুকে পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করছেন। তাদের মতো ওই এলাকার শতশত কৃষক ধরলার বুকে ভুট্টার রোপন করেছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ বছরও ভুট্টার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
গোরকমন্ডল কৃষ্ণানন্দ বকসি মরিচ চাষি গোবিন্দ চন্দ্র রায় জানান, বারোমাসিয়া বুকে দুই বিঘা মরিচের চাষাবাদ করেছেন। একই এলাকার ফুলকপি চাষি আজগার আলী জানান তিন বিঘা জমিতে কপির চাষ করলে দাম না থাকায় হতাশ তিনি। এ সব চরাঞ্চলের চাষিরা নানা মূখি ফসলের চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করছেন। তবে বিশেষ করে মরিচ ও ফুলকপি-বাঁধা কপির দাম কমায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন জানান, এ উপজেলায় আলু ৯৩৫ হেক্টর,মরিচ ৭৫ হেক্টর, বাঁধা -ফুলকপি ১২০ হেক্টর,বেগুন ৭৫ হেক্টর, ভুট্টা ১ হাজার ২২৫ হেক্টর, ডাল ১৫ হেক্টর সরিষা ২ হাজার ৮৮০ হেক্টর, কলা --টমেটো চাষাবাদ করেছে। অন্য দিকে ধরলা ও বারোমাসিয়াসহ নদীর অববাহিকার কৃষকরা আলু ১১৫ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টর, বাঁধা -ফুলকপি ২৫ হেক্টর,বেগুন ১৫ হেক্টর, সরিষা ২৫ হেক্টর, ভুট্টা ৯৫০ হেক্টর, ডাল ১৫ হেক্টর, বাদাম ১৫ হেক্টর কলা ৮০ হেক্টর ও টমেটো ১০ চাষাবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চরাঞ্চলের এ সকল ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু-মরিচ ফুলকপি ও বাঁধা কপির দাম কিছুটা কমলে লোকসান গুনতে হবে না কৃষকদের।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution