
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৫৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৬, ২০২৫, ১০:২১ পি.এম
রানা প্লাজায় আহত নারীর অনুদানের টাকা আত্মসাৎ! থানায় অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নারী শ্রমিক শামীমা আক্তার আদুরী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকুরী করাকালীন সময়ে আলোচিত রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে আহত হন আদুরী। পরে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরন সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা অনুদান পান। সেই অনুদানের টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়ি উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামে জীবন-জীবিকা শুরু করেন আদুরি। একপর্যায়ে আদুরী গার্মেন্টস থেকে প্রাপ্ত অনুদানের ৩ লাখ টাকা দিয়ে লাইজু নামে এক ব্যক্তির ৬০ শতক জমি বন্ধক নেন। জমি বন্ধকের স্ট্যাম্প থাকলেও এখন অস্বীকার করছেন লাইজু। এমনকি বন্ধকী জমিতে উঠতে দেবেনা বলেও আদুরিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এবিষয়ে ভুক্তভোগী গার্মেন্টস শ্রমিক শামীমা আক্তার আদরির মা নুরুন নাহার বাদি হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট স্ট্যাম্পমূলে কসবা নুরপুর গ্রামের তছলিম উদ্দিনের ছেলে লাইজু মিয়াকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে কসবা নূরপুর মৌজার, জেএলনং- ২০৪, খতিয়ান নং- ৭৩, দাগ নং- ৫২০ এর ৬০ শতক জমি বন্ধক নেয়। নারী শ্রমিক শামীমা আক্তার আদরি অসুস্থ থাকায় স্ট্যাম্পটি তার মায়ের নামে লিখিত করেন। বন্ধকনামা সম্পাদনের পর বন্ধককৃত জমিটি লাইজু নিজেই বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু এখন জমির ফসলের ভাগ দিতে টালবাহানা করছেন লাইজু। এরপর নিরুপায় হয়ে আদরি গ্রাম্য শালিস ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেও সুবিচার পায়নি। পরে থানার অভিযোগ দিয়েছেন।
ভাংনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন ওয়াহেদী বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার মীমাংসার জন্য বসেছিলাম। অভিযুক্ত লাইজু মিয়া ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করে এবং টাকা ফেরত দেয়ার জন্য সময় নেয় । কিন্তু পরে আর টাকা দেয়নি। ভুক্তভোগী শামীমা আক্তার আদরি বলেন, মিঠাপুকুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। আমার অভিযোগের সত্যতা পেলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আমি পুলিশের কাছে সঠিক বিচার ও সহযোগিতা চাই। মিঠাপুকুর থানার এসআই আব্দুল মজিদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করেছি। অভিযুক্ত লাইজু মিয়াকে থানায় ডাকা হয়েছিল কিন্তু তিনি থানায় আসেননি। পরে ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত লাইজু মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছি। ভুক্তভোগী নারী আইনগত সহযোগিতা এবং সঠিক বিচার পাবেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution