
নারী ফুটবলে সংকট কাটছেই না। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করেছে সভাপতির নিকট। সভাপতি গত শনিবার থেকে ফুটবলারদের অনুশীলনে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আজ ফুটবলাররা অনুশীলন বর্জন করায় সংকট আরো বেড়েছে। সমাধান কী সেটা যেন খোদ বাফুফেও জানে না।
ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ সংস্থা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও ফুটবলার-কোচের দ্বন্দ্বের বিষয়ে অবগত। আজ পল্টন ময়দানে আরচ্যারি ফেডারেশনের আয়োজিত তারুণ্যের উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। চলমান নারী ফুটবল সংকট নিয়ে তিনি বলেন, 'ফুটবল উন্নয়নে নারীদের অসামান্য অবদান রয়েছে। তারা একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এটা (চলমান সংকট) বাফুফের কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা। আশা করি অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে। বাফুফে সভাপতি দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দেশে এসেছেন এমিকিউবেল আলোচনার মাধ্যমে সেটেল সম্ভব।’
নারী ফুটবলে উদ্ভুত সংকটের পেছনে বড় দায় রয়েছে ফেডারেশনের। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও খেলোয়াড়রা এই কোচের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। এরপরও বাফুফে সমস্যা সমাধান না করেই পিটার বাটলারকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। এখন কোচ ও খেলোয়াড় দুই পক্ষই এক অন্যকে বয়কট করে চলছেন। এতে সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তিও সংকট চলছে। যার প্রভাব পড়ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওপর। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিবের মন্তব্য, 'এটা আলোচনার মাধ্যমে যাতে সুন্দর সমাধান করা যায় সেদিকে আমরা যাচ্ছি।’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গত সপ্তাহের বুধবার দেশে এসেছেন। বাফুফে এখনো পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। ফেডারেশনের অভিভাবক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-মন্ত্রণালয়ের কাছেও এখনো কোনো পরামর্শ বা সহায়তা চায়নি সমাধানে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক সপ্তাহ আগে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বাফুফের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এর প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছিল। এখনো সমাধানের আলো রেখা দেখা যায়নি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়/জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নারী ফুটবলের সংকট সমাধান নিয়ে আগামীকাল বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।
২৪ ফেব্রুয়ারি নারী ফুটবল দলের আরব আমিরাত সফরে যাওয়ার কথা। ১৮ জন ফুটবলার এখনো অনুশীলনের বাইরে। তাদের রেখেই আমিরাত যাওয়ার একটি পরিকল্পনা চলছে বাইরে আলোচনায় থাকলেও নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ এখনো পূর্ণ শক্তির দলের প্রত্যাশা করছেন, 'প্ল্যান বি নয় , আমরা এখনো প্ল্যান এ নিয়ে ভাবছি। আমি এখনো আশাবাদী তারা অনুশীলনে ফিরবে। তাদের ১২ বছর বয়স থেকে এই পর্যায়ে আসার পেছনে আমি রয়েছি। আমার কষ্ট অবশ্যই বেশি। তাদের এত সুন্দর ক্যারিয়ার এভাবে শেষ হতে পারে না।’
নারী উইংয়ের প্রধান এখনো আশা দেখলেও কোচ বাটলার নতুনদের নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সাবিনাদের বিকল্প তৈরি করতে আদা-জল খেয়ে নেমেছেন। আজও বাফুফে ভবন ছাড়ার সময় গণমাধ্যমে ভবিষ্যত দল তৈরির কথাই জানিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহের শনিবার বাফুফে নির্বাহী সভার সম্ভাব্য দিনক্ষণ। তবে নারী ফুটবল ইস্যুতে সেই সভা এগিয়ে আসবে কি না এ নিয়ে ফেডারেশন কর্তাদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। নির্বাহী সভা আহবান করবেন নাকি সভাপতি নিজেই এই সংকট নিরসনে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই দেখার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution