প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৩:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৫, ৮:০৭ পি.এম

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দাম কমানোর দাবিতে দিয়ে ভারত-ভুটান থেকে গত ১৩ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। শুধুমাত্র পচনশীল পণ্য ছাড়া গত ১৩ দিন ধরে অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের প্রায় ৭-৮ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। শঙ্কা দেখা দিয়েছে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের মাঝে। ২ ডলার কমার দাবিতে ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রশাসন এ পরিস্থিতি শিগগিরই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
শ্রমিকরা জানায়, এই স্থলবন্দর ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীরা ১৩ দিন ধরে বেকার থাকতে হচ্ছে কয়েক হাজারেরও বেশি শ্রমিককে। বেশি লাভের আশায় মূল্যবৃদ্ধির চক্রান্ত করে ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ রাখছেন। কিন্তু এর মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। পাথর ভাঙার, লোড-আনলোডের কাজ না থাকায় তাদের বেকার থেকে মানবেতর দিনযাপন করতে হচ্ছে।
বড়িমারী বন্দর সুত্র বলছে, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাদে গড়ে প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে পাথর আসে সাড়ে আট থেকে নয় হাজার মেট্রিক টন। এই স্থলবন্দর দিয়ে বিভিভন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমোদন থাকলেও প্রধান পণ্য হিসেবে সারা বছর পাথর বেশি আমদানি হয়ে থাকে। প্রতিদিনই পাথর পরিবহন ও ভাঙার কাজ করেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক, পাথর লোড-আনলোডে নিয়োজিত থাকেন আরও তিন থেকে চার হাজার। এসব কজে মেলে দিনের মজুরি। গত ১৩ দিনে সেই উপার্জনের ঘর শূন্য।
শ্রমিক রহমান সহিদার রহমান বলেন, ‘ বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১৩ দিন ধরে পাথর আসছে না। ব্যবসায়ীরা পাথর আমাদানি বন্ধ করে রাখছে। ১৩ দিন ধরে পাথর ভাঙা বন্ধ থাকায় আমরা বেকার হয়ে পড়েছি।শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পাথর ভাঙার লোড-আনলোডের কাজ বন্ধ রেখেছেন। জানি না কবে আবার চালু হবে। কিন্তু আমরা তো বেকার হয়ে পড়েছি বর্তমানে কাজ না থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে থাকলাম, কি করবো বাকি দিন গুলোতে?’
আরেক শ্রমিক মাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ২ ডলার কমানোর জন্য এ কাজ করছে। কিন্তু শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। সামনে ঈদ আসতেছে, আবার এনজিওর কিস্তি আছে। এসব চিন্তায় ঘুম আসে না। প্রতিদিন অটোরিকশা করে শ্রমিকরা বাড়ি থেকে বন্দরে আসে কাজের আশায়। মেশিন বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানিকারক রাজ ট্রেডিংয়ের সোফিয়া রহমান বলেন, ভারত ও ভুটানের ব্যবসায়ীরা কোনো কারণ ছাড়াই দুই-তিন ডলার দাম বৃদ্ধি করেছে পাথরের। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে ফেলছে। তাই আমরা ভারত ও ভুটানের ব্যবসায়ীদের একমাস আগেই পত্র দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি বেশি দামে পাথর আমদানি করবো না। তারা আমাদের চিঠির কোনো উত্তর না দিয়ে পাথরের দাম বৃদ্ধি করে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর লোড-আরলোড লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা এতে আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। ব্যাবসায়ীরা আমাদের বলছে খুবই দ্রুত সমস্যা সমাধান করবে, কিন্তু কবে করবে সেটা আসলে আমরা জানি না। আমাদের শ্রমিকরা নিয়মিত আসে সারাদিন বসে থেকে বাসায় চলে যায়, কাজ কাম নেই তা কি করবে এখন?
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ বলেন, ‘পাথরের দাম কমানোর দাবি যৌক্তিক ও কমানো উচিত। না কমালে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু রাইয়ান আশয়ারী রছি বলেন, ভুটান এবং ভারতের বোল্ডার পাথরের বর্তমান দাম নির্ধারণে সেখানকার রপ্তানিকারকদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া না পাওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছি। তিনি আরো বলেন ভারত ও ভুটান থেকে প্রতি টন বোল্ডার পাথর ১০, ১৪ ও ১৬ ইউএস ডলারে আমদানি করতে হয়। এতে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি টনের দাম এক ডলার কমানোর জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ কারণে ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা রাহাত হোসেন বলেন, আমদানি-রপ্তানির বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশনের। তবে আমাদের অফিস চলমান। আমদানি-রপ্তানি চালু হলে কার্যক্রম শুরু হবে। আমদানি-রপ্তানি না থাকলে রাজস্বে প্রভাব পড়বে। পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, “বুড়িমারী স্থল বন্দরের পাথর আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমসহ সকল কর্মকর্তার সাথে কথা বলছি ওনারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, খুব দ্রুতই এটার সামাধান হবে। এ বিষয়ে গতকাল আমাদের মিটিং হয়েছে, এখন আবারও আমি তাদের সাথে কথা বলব! আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আমি এ বিষয়টি জানিয়েছি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি এবং চলমান রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এটা সমাধান করার চেষ্টা করতেছি আর এটা মূলত সমস্যাটা দুই ডলার নিয়ে সমস্যা”।