
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১১, ২০২৬, ১০:৪৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৭, ২০২৫, ৭:৫৭ পি.এম
খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া নদীর বুকে সবুজ ফসলে ভরে গেছে

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে খরস্রোতা ধরলা-বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে চাষিরা বোরো, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের চারিদিকে সবুজ ফসলেই ভরে গেছে। এ যেন সবুজের এক সমারোহ।
অথচ মাত্র এক থেকে দেড় যুগ আগেও পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন ছিল ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীতে। এসব নদীর প্রবল স্রোতের কারণে আঁতকে উঠতো তীরবর্তী হাজারও বাসিন্দা। এখন পানি না থাকায় ধরলা -বারোমাসি নদীতে ছোট বড় প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক চরের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জীব বৈচিত্র্যের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ধরলা বারোমাসি নদীতে পানি না থাকায় মানুষজন পায়ে হেঁটে কৃষক ধরলা বুকে জেগে ওঠা চরে পলিমাটি বোরো ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করেছেন নদী পাড়ের চাষিরা।
শুধু ধরলা ও বারোমাসি নদীতে নয়, এই দুই নদী সংলগ্ন নীলকমলসহ আশে পাশের সকল নদ-নদীর বুকেও শতশত বিঘা জমিতে কৃষকরা গত ৮ থেকে ৮ বছর ধরে বোরো ধান ও ভুট্টার চাষাবাদ করে আসছেন।প্রতি বছরে একবার এসব নদ-নদীর বুকে চাষাবাদ করে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসলেও নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ডিঙ্গি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী জেলে পরিবার গুলো কঠিন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে বোয়াল, কাতলা, রুই, টেংরা, কর্তি, ভেটকি, বৈরালীসহ নানান প্রজাতির মাছ শিকার করে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। পানি প্রবাহ না থাকায় এসব মাছের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা।
ধরলা পাড়ের সোনাইকাজী এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক ও শফিকুল ইসলাম জানান, এক সময় এই ধরলা নদীই আমাদের ঘর-বাড়ি, আবাদি জমি-জমাসহ সব কিছুই গিলে নিয়েছে। সেই ধরলা এখন শুকিয়েছে। অনেকেই ধরলার আগ্রাসী রূপ দেখেছে। ধরলার তীব্র ভাঙনে অনেকেই নি:স্ব হয়েছেন। এখন আমরা প্রতি বছর ধরলার বুকে জেগে উঠা পলিমাটিতে ৪ থেকে বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ করছি। এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে। আশাকরছি গত বছরের মতো এ বছরও প্রতি বিঘায় ২৮ থেকে ৩০ মন ধান ঘরে তুলতে পারবো।
একই এলাকার কৃষক কৃষক মজসেদ আলী ও মোন্নাফ আলী জানান, কমপক্ষে ৮-১০ বছর ধরে ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর বুকে বোরো এবং ভুট্টার চাষাবাদ করছি। প্রতি বছরেই বোরো ও ভুট্টার ভাল ফলন হয়ে আসছে। আশা করছি এবছরও ভাল ফলন হবে। তারা আরও জানান, প্রত্যেকেই তিন বিঘা বোরো ও দুই বিঘা ভুট্টা চাষ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। তবে এ বছর খরচটা অনেক বেশি হয়েছে। ধান ও ভুট্টার দাম ভাল না থাকলে আমাদের চাষিদের লোকসান গুনতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ১০ হাজার ২০৫।এর মধ্যে ধরলা-বারোমাসিয়া নদীর অববাহিকায় বোরো চাষাবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর। সেই সাথে এ উপজেলায় ২ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ হয়েছে এবং ধরলা-বারোমাসিয়া নদীর বুুকে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ হয়েছে। ভুট্টা কর্তন চলমান রয়েছে। গত বছরের ন্যায় এ বছর বোরো ও ভুট্টার ফলন ভালোই দেখা যাচ্ছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবে এবং দামেও ভাল পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution