প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ১১:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৫, ১০:৩৯ পি.এম

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল গঙ্গাচড়ার মহিপুর তিস্তা সেতু এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘তিস্তা উন্নয়ন ফোরাম, রংপুর’। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, যা কাকিনা তিস্তা সেতুর উত্তরপ্রান্ত এসকেএস বাজার থেকে শুরু হয়ে বুড়িরহাট রোড আনুর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে এই ব্যতিক্রমধর্মী মানবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। শিশুদের এই মানববন্ধনের দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে নাড়া দেয় এবং স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রতীকী অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মানববন্ধনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শ্রাবণ, এনসিপির রিফাত তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে রংপুরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। চিকিৎসাসেবায় স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও উপকৃত হবেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল আলীম প্রামানিক বলেন, এই হাসপাতাল রংপুরের গঙ্গাচড়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ । একটি উন্নত হাসপাতাল শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, এটি হবে জ্ঞান, স্বাস্থ্য গবেষণা ও মানবিকতার বিকাশ কেন্দ্র।মাননীয় প্রধাণ উপদেষ্টা রংপুরকে এক নম্বর জেলায় উন্নিত করার ঘোষণা দিয়েছেন,এই হাসপাতাল রংপুরে নির্মিত হলে সেই শর্ত পুরণ হবে।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদ সদস্য হানিফ খান সজিব বলেন, ভারত যখন চিকিৎসা ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে, তখন আমাদের দেশে নিজস্বভাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এই হাসপাতালটি হবে আত্মনির্ভর স্বাস্থ্য সেবার মাইলফলক।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সেক্রেটারি ইউনুছ আলী বলেন, রংপুরে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণমূলক এই মানববন্ধন অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। এই দাবি পূরণের মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদের আত্মাহুতি স্বার্থক হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গঙ্গাচড়া উপজেলার আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, এই হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি মানবকল্যাণের একটি বড় উদাহরণ। আমরা এর পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
বিএনপি নেতা ওয়াহিদুজ্জামান মাবু বলেন, ভারত আমাদের চির শত্রু। তাই রংপুরে তিস্তার চরাঞ্চলে এই হাসপাতাল নির্মাণ হলে অবহেলিত তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে ভারতকে উচিত জবাব দেয়া যাবে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, আমরা রংপুরের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয় শহীদ আবু সাঈদের আত্মাহুতির মাধ্যমে রংপুরবাসী সেটা জানে। চীন - বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণের দাবি আদায়ের জন্য যদি আবারও বুকের তাজা রক্ত দিতে হয় আমরা রক্ত দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রায়হান সিরাজি বলেন, চীন - বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে পার্শ্ববর্তী আন্দোলনকারী বন্ধুদের বলতে চাই, রংপুর বিভাগের প্রাণ কেন্দ্র রংপুর জেলা, তাই অন্য কোন জেলায় নয় রংপুরের মহিপুর চরে পরিদর্শনকৃত জায়গায় এই হাসপাতাল নির্মাণ করে রংপুরের গণমানুষের দাবি পূরণ করতে হবে। অন্যথায় রংপুরের সর্বস্তরের মানুষ দূর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করবে ইনশাআল্লাহ।
গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপি ও মানববন্ধন কর্মসূচীর সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আমরা এই প্রকল্পের পক্ষে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জনগণের অধিকার। উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতাল রংপুরে নির্মাণ হওয়া আবশ্যক।
প্রস্তাবিত স্থানটি গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর তিস্তা সেতু সংলগ্ন চর কলাগাছি এলাকা। এখানে প্রায় ২৯ একর খালি জমি রয়েছে, যা হাসপাতালের মূল ভবন, হেলিপ্যাড, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আবাসন ও গবেষণাগার নির্মাণের জন্য উপযুক্ত। সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে জানান আয়োজকেরা।
তিস্তা তীরবর্তী জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ। শিশুদের অংশগ্রহণে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন এই দাবির ন্যায্যতা ও গুরুত্ব আরও জোড়ালো তুলে ধরে।