
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১১, ২০২৬, ১০:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৫, ৪:২০ পি.এম
ফুলবাড়ীতে আধুনিক ও স্মার্ট যুগে প্রাচীণ ঐতিহ্য রক্ষার্থে কোঁচ দিয়ে মাছ শিকার

এমন দৃশ্য দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী এলাকায় ধরলা সেতুর পাড়ে। সম্প্রতি সময় এক রাতে দুই যুবক এক সঙ্গে হাতে লাইট ও কোঁচ (কোঁচা) নিয়ে ধরলা নদীতে মাছ শিকারের ফুলবাড়ী ধরলা সেতু দিয়ে পায়ে হেঁটে পূর্ব দিকে ধরলা-বারোমাসিয়া নদী যাচ্ছিল এবং কয়েকজন যুবক নদীতে এক হাতে লাইট জ্বালিয়ে কোঁচ (কোঁচা) মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে।
ধরলা ও বারোমাসিয়া তীরবর্তী স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় ধরলা, বারোমাসি ও নীলকমল নদীর পাশাপাশি প্রায় সব জায়গায় কোঁচ (কোঁচা-যন্ত্র) দিয়ে মাছ শিকার করতেন স্থানীয়া। এখন আগের মতো ছোট ছোট নদী -নালা, খালবিল ও ছড়াগুলোতে এখন আর আগের মতো পানি নেই। এখন এঅঞ্চলের প্রধান নদী ধরলা এখন পানি পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। এক সময় উপজেলা জুড়ে প্রধান নদী ধরলা, এরপর দ্বিতীয় বারোমাসিয়া ও তৃতীয় নীলকমল নদী। ধরলা নদীতে কোন জায়গায় কোমর পানি, আবার কোন কোন জায়গায় হাঁটু পানি। বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর অবস্থা আরও করুন। এই দুই নদী বর্তমানে হাঁটুর নিচে পানি। এ সব নদীতে পানি না থাকায় আগের মতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছও নেই।
এমন অবস্থাতে ধরলা পাড়ের কিছু কিছু মানুষ মাছ শিকারের জন্য কোঁচ দিয়ে রাতের আধাঁরে বেড়িয়ে পড়েন। কেউ হাঁটু পানিতে আবার কেউ কেউ ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে কোঁচ দিয়ে মাছ শিকার করছেন।
ধরলা পাড়ে কোঁচ নিয়মিত মাছ শিকার করেন বাদশা মিয়া ও কোরবান আলী। এই দুই যুবক জানান, সারাদিন মাঠে কাজ করি। আমরা প্রায় দিন সন্ধ্যার সময় মাছ ধরার জন্য ধরলা নদীতে যাই । রাত ১২ টা, ১ টা পর্যন্ত মাছ শিকার করতে ব্যস্ত থাকি। আগের মতো মাছ নেই। বর্তমানে দুই তিন ঘন্টায় কোন দিন ২০০ গ্রাম, কোন দিন ১০০, ১৫০ গ্রাম, আবার কোন সর্বোচ্চ ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত মাছ ভাগ্যে জোটে। তবে বড় মাছ নেই, ছোট, ছোট মাছ। কিন্তু নদীর মাছে স্বাদ অনেক বেশি। রাতের আধাঁরে অত্যান্ত কৌশলে এক হাতে লাইট জ্বালিয়ে মাছকে লক্ষ্য করে কোঁচ নিক্ষেপ করে মাছ শিকার করতে হয়। এই দুই যুবক আরও জানান, এখন প্রায় প্রতিদিনেই বৃষ্টি হচ্ছে আর কিছুদিন পর ধরলার পানি বাড়তে শুরু করবে। তখন বড় বড় মাছ পাওয়া যাবে।
পশ্চিমফুলমতি বারোমাসিয়া এলাকার শহিদুল ইসলাম ও কুরুষাফেরুষা এলাকার ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, কোচ দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য দুই তিন সপ্তাহে মধ্যে নদী এলাকাসহ প্রায় সব জায়গায় দেখা যাবে। সামনে ভর বর্ষাকাল থেকে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস স্থানীয় লোকজন এই কোচ দিয়ে মাছ শিকার করবে। তবে এটি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার ও জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল বিলে প্রতি বছর আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত যেসব মাছ ধরার উপকরণ (যন্ত্র) দিয়ে মাছ ধরা হয়, তার মধ্যে কোঁচ (কোঁচা) অন্যতম। কোঁচ পাঁচ থেকে ছয় হাত চিকন বাঁশের গোড়ার দিকে কামার শিল্পীরা লোহার অগ্রভাগে কালা বা আল তৈরি করে নেন। সেই কোঁচ দিয়ে নদী নালা খাল-বিলে মাছের উপর বেশ খানিকটা দূর থেকে টার্গেট করে টেটা নিক্ষেপ করে শিকার মাছ করা হয়। বর্তমান সময়ে আধুনিক ও স্মার্ট যুগে মাছ ধরার আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক উপকরণ বা যন্ত্র আবিষ্কার হলে কোঁচের ব্যবহার অনেক কমে গেলেও এর কদর এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বিশেষ করে বর্ষাকালের সব জায়গায় এর কোঁচের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তবে এটি আমাদের সবাইকে প্রাচীনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution