
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় বাজার হিসেবে গঙ্গাচড়া হাটের গুরুত্ব অপরিসীম। কালের পরিক্রমায় এই হাটের জায়গা বেদখল হয়েছে, ফলে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে গঙ্গাচড়া হাট। বর্তমানে হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু গঙ্গাচড়া হাট কিন্তু বাজার কেন্দ্রিক সরকারি খাস জমি বেদখল থাকায় নিরুপায় হয়ে পণ্য নিয়ে বসতে হচ্ছে রাস্তায়, ফলে সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গঙ্গাচড়া হাটের পণ্য কেনা - বেঁচায় একমাত্র উন্মুক্ত জায়গা ছিল থানা সংলগ্ন মাঠ। বর্তমানে সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মিত হওয়ায় গঙ্গাচড়া হাটে উন্মুক্ত পণ্য কেনা বেঁচায় দেখা দিয়েছে চরম সংকট।জায়গা সংকটে এখন, গরু - ছাগল, ধান, পাট, তামাক, হাস -মুরগি, বাঁশ, আসবাবপত্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে এখন গঙ্গাচড়া হাটে না আসায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে ইজারাদারদের। সপ্তাহে দু'দিন হাট বসলেও হাটে পণ্য নিয়ে বসার মত পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিপাকে পরেছেন ব্যবসায়ীরাও। নিরুপায় হয়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে রাস্তায় বসছেন। এতে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ, তেমনি সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ।
তবে এসব সমস্যার ইতি টানতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সূধীজনের সমন্বিত সিদ্ধান্তে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল হওয়া খাস জায়গাগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে সবাইকে আশান্বিত করেছে।
বিশেষ করে, উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন ৪২ শতাংশ খাস জমি, ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা মোড় পর্যন্ত রেকর্ডিং রাস্তা উন্মুক্ত করণ , সদর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনের সরকারি পুকুর ভড়াট করে হাটের কাজে ব্যবহার উপযোগী করণ, বাজারের প্রধান সড়কের দুই পার্শ্বের ফুটপাত দখল মুক্ত করণে এই সমস্যার নিরসন ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গঙ্গাচড়া হাটে আসা কবুতর ব্যবসায়ী আরব আলী বলেন, আমি প্রতিহাটে কবুতর নিয়ে আসি। কিন্তু হাটের জায়গা না থাকায়, কবুতর নিয়ে রাস্তায় বসতে হয়। এতে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, অনেক সময় বড় গাড়িঘোড়া আসলে কবুতর নিয়ে উঠে যেতে হয়।
আসবাবপত্র ব্যবসায়ী মোক্তারুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন যাবৎ আমি চেয়ার - টেবিল, ঘাট, আলমিরা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। আগে মাট ছিল সুবিধাও ছিল অনেক, এখন হাটের জায়গা না থাকায় আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তায় বসে কোন রকমে ব্যাবসা করছি। আমরা হাটের একটা নির্দিষ্ট জায়গা চাই। যেখানে এসে আমরা নির্বিঘ্নে পণ্য নিয়ে বসতে পারব।
ভিতর বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান বলেন, পরিষদ হয়ে ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা পর্যন্ত রাস্তাটা বের হলে লোকসমাগম বাড়বে আমাদের ব্যাবসায় গতি আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গঙ্গাচড়া হাটের ঐতিহ্য, ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল হওয়া খাস জায়গা দ্রুত উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পূর্ণ হলে হাটের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার সমস্যা যেমন সমাধান হবে, তেমনি ব্যাবসা বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে। হাটে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, "খাস জমি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেলেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।"
একই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, সরকারি হাটের জায়গা অবৈধভাবে বেদখলের সুযোগ নেই। যতদ্রুত সম্ভবত আইনগতভাবে অনুমোদন দিয়ে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution