
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজু ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঝুলিপাড়া এলাকায় সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫১ এর ৩ নম্বর সাব পিলার এলাকায় এঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। স্থানীয়দের দাবি বিএসএফের গুলিতেই ওই বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বিএসএফের গুলিতে কারো নিহতের ঘটনা ঘটেনি বলে বিজিবি জানিয়েছে।
নিহত রাজু ওই এলাকার কৃষক আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। রাজু কৃষি কাজের পাশাপাশি গরুর ব্যবসা করতো। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঝুলিপাড়া এলাকায় কয়েকজন মিলে গরু আনতে ভারতীয় সীমান্তে যান রাজু। পরে বিএসএফের কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫১ এর ৩ নম্বর সাব পিলার এলাকায় তাদের ধাওয়া দেয়। পরে পালিয়ে আসার সময় রাজুর দুইপায়ের হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে রাজু আহত অবস্থায় বাসায় ছুঁটে আসে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পথে দেবীগঞ্জ এলাকায় রাজুর মৃত্যু হয়।
হামিদার হক নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি বলেন, রবিবার ফজরের নামাজ পড়ে আমি বাইরে বের হই। পরে রাস্তায় কয়েকজন বিজিবি সদস্য আমাকে জিজ্ঞেস করে রাজুর বাড়ি কোনটা। পরে আমি দেখিয়ে দেই যে সে আমার ভাতিজা হবে। কিছু সময় পরে সীমান্ত এলাকায় গরু বাঁধতে গিয়ে দেখি ৬০-৭০ জন বিএসএফ সদস্য দুইটা গাড়ি নিয়ে পুলিশ সহ দাড়িয়ে আছে। তারা বাংলাদেশের জমিতেই দাড়িয়ে ছিল। পরে আমি বাসায় চলে আসি। বিএসএফের গুলিতেই রাজুর মৃত্যু হয়েছে।
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টায় শুনতে পাই রাজু নামে একজন মারা গেছে। পরে জানতে পারি গরু আনতে গিয়ে মারা গেছে। স্থানীয়রা রাতে গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছে।
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-নুর-ই আলম বলেন, আমি সকালে স্থানীয়দের মাধ্যেমে জানতে পারি রাজু নামে একজন বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন। পরে তার বাসায় এসে দেখি তার দুই হাটুতেই গুলির আঘাতের চিহ্ন। গর্ত হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা বিএসএফের গুলিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি যদি টহল ঠিকমত করতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যাক্তির মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুরতহালে নিহতের দুই হাঁটুতেই গুলির চিহ্ন মিলেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। অনেকে বলেছেন তার হার্টের সমস্যা আছে। যদি থেকে থাকে তা চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন। এঘটনায় অবশ্যই একটি মামলা হবে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, সীমান্তে কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তে আমাদের দুইটি টহল দল ছিল। স্থানীয়দের ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি আমরা। তারা জানিয়েছেন যে রাজু হৃদরোগে মারা গেছেন। বিএসএফের সাথে কথা বলে জেনেছি রাতে কোন ঘটনা ঘটেনি। কেননা গুলি হলে তো দুই কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায়। যদি কেউ গুলির কথা বলেন তাহলে ভূল বলেছেন। তবে পুলিশ যদি গুলির কথা বলে সেটা তাদের বিষয়। হয়তো হাটুতে আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। সে কারণে মৃত্যু হতে পারে। সীমান্তে বিজিবি সর্বদা তৎপর
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution