
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৫, ৮:৪৯ পি.এম
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা, সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিন্তাই

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ২৩ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত একযোগে থানার ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও নথিপত্র ভাঙচুর করে। ইট-পাটকেল ছুঁড়ে জানালার কাচ ও দরজা ভেঙে ফেলে। পুলিশের বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাজতের তালার চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা চপলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে সেনা ও বিজিবি:
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুলিশের:
ওসি মিজানুর রহমান জানান, হামলায় জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা গেছে। তাদের অধিকাংশ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সন্ধ্যায় সরোরবাজার এলাকায় চাঁদাবাজির সময় বেলাল ও সোহেলকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উত্তম কুমার দাশ তাদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তারা দুজনেই স্থানীয় শ্রমিক দলের নেতা। তাদের মুক্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন থেকে চাঁদা তুলে আসছে। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এই পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির পাটগ্রাম উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল। তিনি বলেন, “এটি বিএনপির সঙ্গে পুলিশের কোনো সংঘর্ষ নয়। মূল ঘটনা পাথর কোয়ারি ইজারাদারদের সঙ্গে।”
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution