
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৭:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৫, ৮:০৫ পি.এম
পানি সংকটে পাট জাগ দিতে পাড়ছেন না ফুলবাড়ীর চাষিরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না প্রান্তিক চাষিরা। ফলে পাট কাঁটার উপযোগী হওয়ার পরেও কৃষকরা পাট কাঁটছেন না। ফলে পাট জাগ দিতে না পাড়ায় দুচিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পানির সংকটে কৃষকরা পাট জাগ দিতে না পাড়ায় দুচিন্তায় পড়েছেন। তবে ধরলা, বারোমাসিয়া, নীলকমল নদী এলাকার আশেপাশের কৃষকরা গত এক সপ্তাহ থেকে পাট কেটে জাগ দেয়া শুরু করেছে।
আবার কিছু কিছু কৃষক অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দুই থেকে তিন-চার কিলোমিটার দুরে বিভিন্ন ছড়ায় (জলাশয়) নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।
তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাত না হলে পাট চাষিরা চরম আশঙ্কায় দিন পাড় করছেন । প্রতি বছর কৃষকরা পাট জাগ দিতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
পাট চাষে এ রকম সমস্যা বছরের পর বছর দেখা দেওয়ায় এক সময় পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন আশঙ্কা করছেন কৃষকসহ অনেকেই। এছাড়া পাট চাষে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন পাট চাষিরা।
কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের পাট চাষি বদিউজ্জামাল আদা বিঘা জমিতে পাট করেছি। পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকায় দোলায় পাট জাগ দিতে পাড়ছি না।
উপজেলার গজেরকুটি এলাকার পাট চাষি কিশোব চন্দ্র রায় ও ধীরেন চন্দ্র রায় জানান, দুই তিন থেকে বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকেই। পাট জাগা তো দুরে থাক আমন ধানের জমিগুলোতে পানি জমেনি। ফলে আমরা পানির অভাবে পাট কেটে ডোবায় পাট জাগ দিতে পাড়ছি না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নদী এলাকার কৃষকরা পাট কাটতে শুরু করেছে। যেহেতু দুই তিন দিন থেকে কখনো হালকা, কখনো মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হলেই ধানের জমি ও ডোবায় পানি জমেনি জানিয়েছেন। প্রতি বছর চাষিরা পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়াসহ নানা ভোগান্তিতে পড়ায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। যেহেতু সরকার পলিথিনমুক্ত দেশ গড়তে চাইলে পাট চাষে কৃষকদের আধুনিক উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সমন্বয় করে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। সেই সাথে পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারলে এ অঞ্চলে সোনালী আঁশ পাটের সুদিন ফিরে আসবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন জানান, কৃষি বিভাগ সব সময় পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। এ বছর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৪৮০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা পাটের চাষাবাদ করেছে। ইতো মধ্যে নদী এলাকার পাশপাশসহ প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির পাট কর্তন করে জাগ দেয়া সম্পুর্ণ হয়েছে। যেহেতু বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে আশা রাখছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাট চাষিদের পানির সমস্যা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution