
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চলছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং। আবহাওয়া সামান্য খারাপ হলেই থাকছেনা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ। এমনকি আবহাওয়া খারাপ না থাকলেও চলছে এই লোডশেডিং।
মাঝে মাঝে বৈরী আবহাওয়ায় একদিকে যেমন জনজীবন স্থবির, সাথে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং এর কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বর্তমানে প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই কোনো না কোনো ভাবে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ নির্ভর এসব ব্যবসায়ীদের আজ মাথায় হাত। বিশেষ করে, মিল চাতাল আর বাজারের কম্পিউটার ফটোকপি ব্যবসা বলা চলে বন্ধ প্রায়। বর্তমানে সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন মোবাইল নেটওয়ার্ক। টানা লোডশেডিং এর কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকছেনা। যা বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে খুব সমস্যা সৃষ্টি করছে। এখন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলেই মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে। বিশেষ করে, ধান চাল ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র মোবাইলে যোগাযোগ করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য আদান প্রদান করে থাকেন। পাশাপাশি দুর্বিষহ দিন কাটছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান চালকদের। সাধারণত সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া খেটে রাতের বেলা এসমস্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান গুলো বিদ্যুতের লাইনে চার্জ দেওয়া হয়।
উপজেলার কৃষ্ণরামপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক সারোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে রাতে টানা বৃষ্টির কারণে সারা রাত বিদ্যুৎ থাকেনা। আর এখন দেখছি আবহাওয়া খারাপ না থাকলেও বিদ্যুৎ থাকছেনা। অটোতে ঠিকমত চার্জ দিতে পারিনা। দিনের বেলাতেও বিদ্যুতের সমস্যা আর রাতের বেলাতেও। তাহলে অটোতে চার্জ দিবো কখন? আর ভাড়া খাটবো কখন? তিনি অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, 'অল্পতেই বিদ্যুৎ যায়, বিদ্যুতের কি বাপ মা নাই'। এদিকে টেইলার্স ব্যবসায়ী লালমনি বলেন, এখন আমরা বিদ্যুৎ চালিত সেলাই মেশিন ব্যবহার করি। কিন্তু বিদ্যুতের যা পরিস্থিতি তাতে এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কামলা দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। এখন যারা বিদ্যুৎ অফিসে আছেন তারা কি এই বিষয়গুলো দেখেন না?
উপজেলার একাধিক কম্পিউটার ফটোকপি ব্যবসায়ীরা বলেন, কিছুদিন আগে এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষার কারণে দুপুর ১ টা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আবার এখন শুরু হইছে লোডশেডিং। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাবো কই? উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আঁখিনূর আলম বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করছি দিনে রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ যাওয়া আসা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় সব কিছুই বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। সমস্যা জানার জন্যে রানীগঞ্জ বিদ্যুতের অফিসে ফোন দিলে ফোন না ধরে কেটে দেয়। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জানতে চাই সমস্যা কোথায়? কেনো এতো লোডশেডিং? কইপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক বিমল কাশি বলেন, রানীগঞ্জের বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে সহজে ফোন ধরেনা। যদিও ধরে, বলে যে এখানে তার পড়ে গেছে, ওখানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। আমার প্রশ্ন: এতো নড়বড়ে জিনিস এরা লাগায় কেনো?
বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ঘোড়াঘাট জোনাল অফিস, ডুগডুগিহাট এর ডিজিএম কামরুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে এতো বেশি লোডশেডিং। তিনি জানান, বড়পুকুরিয়া থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে সরবরাহ পাই। জাতীয় গ্রীডেই সরবরাহ কম তাই চাহিদা অনুযায়ী এই জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে জানতে চাইলে ডিজিএম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কোনো ধারণা নাই।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution