
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌরসভার জায়গা দখলে বাঁধা দেওয়ায় দুই কর্মচারীর ওপর হামলা ও বেধড়ক মারপিটের ঘটনার থানায় একটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী ও পৌর সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজন শাহ্ নিজে বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৩০/৩৫ জনকে আসামী করে ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর: ২৪, তারিখ: ১৯/০৮/২০২৫ইং।
মামলা আরজিতে বলা হয়, গত রোববার (১৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কতিপয় কুচক্রী মহল ও সন্ত্রাসী ব্যক্তিবর্গ সৈয়দপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া কলাহাটি এলাকায় অবস্থিত মর্ডান পাবলিক টয়লেট ব্লকের কিছু জায়গা অন্যায় ও অবৈধভাবে নিজ দখলে নিয়ে নির্মাণ কাজ করছিল। আর এ খবর পেয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী ও পৌর সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজন শাহ্ এবং বিল ক্লাকর্ (পানি শাখা) মো. মোকছেদ আলীসহ সেখানে যান। তারা রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে মামলায় উল্লিখিত আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩০/৩৫জন ব্যক্তিবর্গকে পৌরসভা সম্পত্তি নিজ দখলে নিয়ে নির্মাণ কাজ করতে দেখেন।
এ সময় নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বললে দখলবাজরা পৌরসভার ওই দুই কর্মচারীর ওপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত আক্রমন করে। এ সময় শুভ নামের এক ব্যক্তি পৌর কর্মচারী সুজন শাহ’র গলা টিপে তাঁর প্রাণনাশের অপচেষ্টা চালায়। এ সময় পৌর কর্মচারী মোকছেদ আলী ও সেখানে উপস্থিত মিস্ত্রী তৌহিদুল ইসলাম এগিয়ে আসেন।
এ সময় দখলবাজ সন্ত্রাসী ব্যক্তিরা তাদের হাতে থাকা রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পৌর দুই কর্মচারীর ওপর চড়াও হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। এতে পৌর কর্মচারী সুজন শাহ গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় দখল ও হামলাকারী ব্যক্তিরা জনৈক মিস্ত্রি তৌহিদুল ইসলামের পকেটে থাকা ত্রিশ হাজার টাকা বের করে নেয়।
পরবর্তীতে আশেপাশের দোকানদার ও লোকজনরা হামলা ও মারপিটের শিকার দুই পৌর কর্মচারী সুজন শাহ ও মোকছেদ আলীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলে ভর্তি করান। বর্তমানে ওই দুই কর্মচারী সেখানে (হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হামলা ও মারপিটের শিকার পৌর কর্মচারী সুজন শাহ গতকাল মঙ্গলবার নিজে বাদী হয়ে ১২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ রির্পোট পাঠনো পর্যন্ত মামলার কোন আসামীকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে, পৌরসভার দুই কর্মচারীর ওপর আতর্কিত হামলা ও বেধড়ক মারপিট করে আহত করার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি কর্মসূচিতে সৈয়দপুর পৌরসভার সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। তারা পৌর কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবস্থান দিয়ে ওই কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে পৌরসভার সকল প্রকার সেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে মানুষ সেবা নিতে এসে না ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পৌরসভা নাগরিকরা তাদের সেবা না পেয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
গত দুই দিন যাবৎ পৌরসভার সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ও শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ময়লা আবর্জনা স্তুপ দেখা দেয়। এতে পথচারী তথা পৌর নাগরিকরা চরম বিপাকে পড়েন। এছাড়াও পৌর কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অনেক এলাকার গত সোমবার রাতে বেলায় স্ট্রীট লাইটগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে পৌরসভার পুরো আবাসিক এলাকাগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এবং ভূতড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। এতে শহরবাসী রাতে বেলা চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েন। এ অবস্থায় পৌরসভার কর্মকর্তা - কর্মচারীদের চলা কর্মবিরতি প্রত্যাহারে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বৈঠকে বসেছেন সৈয়দপুরের বিএনপি -জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ সুধিজন।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪ টায় সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নুর - ই -আলম সিদ্দিকী। এ রিপোর্ট পাঠনো( সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার পৌর কর্মচারীদের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। (ছবি আছে)।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution