
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ -২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ওই এক্সারসাইজের আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এ.কে.এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম ও মোছা. আফরোজা বেগমের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোরেড মো. আসিফ ইকবাল।বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা দ্রæত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। অংশীজনদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা প্রত্যক্ষ করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। আজকের সিকিউরিটি এক্সারসাইজে যুক্ত প্রতিটি সংস্থা প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। রানওয়ে ওভারলে কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এপ্রোন/ টারমার্ক নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার ফুট পেরিমিটার রোড সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি প্রায় ৩ হাজার ফুট কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সব উন্নয়ন কার্যক্রম যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তুলবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো উড়োজাহাজে বোমা বা বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং বোমা নিষ্ক্রিয় বা উদ্ধার করার প্রক্রিয়া অনুশীলন করা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী বিমানবন্দরে হাইজ্যাক, অগ্নি নিরাপত্তা, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহড়ায় এভিয়েশন সিকিউরিটি, বাংলাদেশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অগ্নি নির্বাপক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (বোমা অপসারণ দল), পুলিশ, আনসার, এপিবিএন, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, বাংলাদেশের বেসরকারি মালিকানাধীন যাত্রীবাহী বিমান সংস্থা এয়ারঅ্যাস্ট্রাসহ বিভিন্ন সংস্থা একযোগে অংশ নিয়েছে।
মহড়ার দৃশ্যে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সোয়া ১১টায় একটি উড়োজাহাজ ছেড়ে দুপুরে পৌণে ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার আগ মুর্হুতে কন্ট্রোল টাওয়ারে অজ্ঞাত ব্যক্তি পোন আসে। এ সময় ওই সংবাদদাতা জানান, উড়োজাহাজে বোমা জাতীয় বস্ত রয়েছে। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই বার্তা বিভিন্ন সংস্থাকে দ্রæত অবহিত করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরী প্রতিরোধ প্রক্রিয়া শুরু করে। বোমা উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সংস্থার প্রায় দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত সদস্য অপারেশনে অংশ নিয়ে অল্পসময়ের মধ্যেই ওই উড়োজাহাজ থেকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution