
আকাশের বয়স সবে মাত্র ১৬ পেড়িয়ে ১৭ তে পা রেখেছে। যে বয়সে পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেয়ার কথা, বিকেল হলে মাঠে খেলাধুলা করার কথা। ঠিক সেই সময়ে মানসিক ভারসাম্য হীন হয়ে শিকল বন্দী হয়ে জীবনযাপন করেছে। পরিবার বলছে, সঠিক চিকিৎসা করাতে পারলে আকাশ ফিরবে তার স্বাভাবিক জীবনে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে চিকিৎসার ব্যয় বহনের কথা জানিয়েছেন। আকাশ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম খরখরিয়া এলাকার সাজু মিয়া ও আকলিমা দম্পতির সন্তান।
জানা গেছে, প্রায় ২ বছর হতে আকাশ মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়ে। এরমধ্যে একটা সময়ে সে হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া যায়। ভালো চিকিৎসার অভাবে কখনো ভালো আবার কখনো অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে আকাশ। গত তিন মাস ধরে লোহার শিকল পড়ে বাড়িতে বন্দী অবস্থায় চলছে তার জীবন। এরআগেও তার পায়ে পড়ানো হয়েছি রসি৷ এতে কেটে গিয়েছিল পা। পরে সেটি খুলে এবার লাগানো হয়েছে লোহার শিকল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছেলেটিকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি খুব ভালো ছেলে দুই বছর আগে হঠাৎ করে তার মানসিক রোগ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা করার পর একটু ভালো হয় গত তিন মাস থেকে মানসিক ভারসাম্য বেশি হওয়ায় পায়ে শিকল দিয়ে রেখেছেন তার পরিবার। আমরা স্থানীয়ভাবে অনেক সহযোগিতা করেছি যদি কোন বিত্তবান এগিয়ে আসে তাহলে ছেলেটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব।
মুকুল মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি বলেন ছেলেটা এমনিতে খুবই ভালো। এমন অবস্থা কিভাবে যে হলো তা আমরা নিজেও জানিনা। ওর বাপ কৃষি কাজ করে তেমন ভালো কিছু খাবারও জোগাড় করতে পারে না। চিকিৎসা তো দূরের কথা তবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারলে ছেলেটি আমার মনে হয় সুস্থ হইতো।আকাশ জানায়, লোকে আমাকে পাগল বলে আমার খুব খারাপ লাগে। আমার মাথার সমস্যা তাই আমাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখছে আমার বাবা। আমার বাবা গরীব কেউ যদি আমাকে সহযোগিতা করতো তাহলে আমি সুস্থ হয়ে পড়াশোনা করতে পারতাম, তাই সকলের কাছে সে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
অশ্রু সিক্ত নয়নে আকাশের মা আকলিমা জানান, ছেলের মাথার সমস্যা, আমার ছেলের দুই বছর থেকে এই সমস্যা। সে মাঝে মধ্যে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে, আটকানো যায় না। ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাই বাধ্য হয়ে তিন মাস থেকে ছেলেকে শিকল পড়িয়ে রাখতে হচ্ছে। আমার ছেলেকে শিকল দিয়ে আটকে রাখতে আমার খুব খারাপ লাগে। আমার ছেলেটার জন্য কেউ সাহায্যের হাত বারিয়ে দিলে তাকে ভালো চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাতে পারতাম।
আকাশের বাবা সাজু মিয়া জানান, দিনমজুরের কাজ করে ছেলের পিছনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি টাকা খচর হয়েছে। দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালানই কষ্টসাধ্য। এর মধ্যে বড় ছেলে ঢাকায় থাকে, মেয়েও বিয়ে দিয়েছি। এখন এই ছেলের চিকিৎসা ভালো জায়গায় করাতে পারলে সুস্থ হয়ে উঠত। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন এই পিতা। চিলমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অ.দা) নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের পক্ষ হতে আকাশ কে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়া হবে। এছাড়াও প্রতিমাসে তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution