
প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১১, ২০২৬, ১২:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ৯:৪৪ এ.এম
কেঁচো সারের খামার গড়ে স্বাবলম্বী স্বপন

লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজে স্বাবলম্বী হতে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণীত হয়ে কেঁচো সারের খামার গড়ে তুলেছেন কলেজ পড়ুয়া স্বপন।নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুঁটিমারী ইউনিয়নের সাধুপাড়া গ্রামের উদ্দ্যোক্তা স্বপন চন্দ্র রায় নীলফামারী সরকারি কলেজে অনার্স ২য় বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ।
নিজ উদ্যোগে তার গ্রামে দেড় বছর আগে একটি কেঁচো সার উৎপাদনের খামার গড়ে তুলেন। প্রথমে ইট দিয়ে তৈরী করা ২০টি হাউজ দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে ৮০টি রিং দিয়ে কেঁচো সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করে স্বপ্ন বুনেন। কেঁচো সার মূলত কলারগাছ ছোট ছোট করে কেটে, গোবর সার, ডিমের খোসার গুড়ো, কচুরিপানা ও শাকসবজির অবশিষ্ট পচিয়ে হাউজে দেয়ার পর সেখানে কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। এর পর ৩৫-৪৫ দিনের মধ্যে সার উৎপাদন হয়। যা দেখতে অনেকটা চা পাতার মত।
উদ্ভিদ বা প্রাণীর বর্জ্য ও দেহাবশেষকে প্রক্রিয়াজাত করণের পর যে সার তৈরী করা হয় সেটাই কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোষ্ট নামে পরিচিত। জমির উর্বরতা বৃদ্ধিসহ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় দিন দিন কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন গ্রামের কৃষকরা।বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় মাসে তার ৫ টন সার উৎপাদন হচ্ছে। তবে আগামী জানুয়ারিতে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা এই উদ্যোক্তার। গ্রামের কৃষকরা খামারে এসে কেঁচো সার কিনছেন। পরিবেশবান্ধব এ সার ব্যবহারে গ্রামের কৃষকরা বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তারা ফসল উৎপাদনেও পাচ্ছেন ভালো ফলন। খামারে ২ জন নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানের খরচ বাদ দিয়ে মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় ২০হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা স্বপন রায় বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষিত জনবলের তুলনায় কর্মসংস্থানের হার কম হওয়ায় পড়ালেখার পাশাপাশি আমি স্বাবলম্বী হতে কোঁচো সার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহন করেছি। কেঁচো সারের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো মাধ্যমে কৃষককের ব্যয় কমানো যায়। কেঁচো সারের খামারে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আমরা যা ব্যবহার করি সবেই পচনশীল। তবে কেঁচো মরে গেলে পরবর্তীতে প্রজননের মাধ্যমে আবার উৎপাদন করা যায়। কেঁচো সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, মাটির আদ্রতা ধরে রাখে, মাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে, ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। এ খামারে আমার কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থান তৈরী হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য তরুন উদ্যোক্তা তৈরী করা যেন চাকুরীর দিকে না ঝুঁকে। তাই সরকারী সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋন পেলে আমি উপকৃত হব। কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষিবীদ লোকমান আলম বলেন, জৈব সারের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সার হচ্ছে কেঁচো সার। এর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।শিক্ষার্থী স্বপন রায় একজন উদ্যমী উদ্যোক্তা। তাকে কৃষি বিভাগ হতে প্রশিক্ষণ দেয়াসহ তার সার বিক্রিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সে বিষমুক্ত সবজি চাষে কেঁচো সার উৎপাদন করে পুরো উপজেলার মানুষের নজরে এসেছেন ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution