
যোগ্যতার মূল্যায়ন না করা, ছাত্রদলের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে না পারা, শিক্ষার্থীদের জন্য দলগতভাবে কোন কর্মসূচি হাতে না নেওয়া এবং দলীয় গ্রুপিংসহ নানা অভিযোগে সাংগঠনিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কার্যক্রম। এসব বিষয়ে হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অধীনে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিতে দেখা গেছে সংগঠনটির অনেককেই। জানা যায়, হাবিপ্রবি ছাত্রদলের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ২০২১ সালের ১৬ জুন।
তবে তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য থাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে বাঁধার মুখে পড়তে হয় ছাত্রদলকে। গত বছর পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হতে শুরু করে এ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনা মোতাবেক বিগত সময়ে ক্যাম্পাসেই নানা কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেছে তাদেরকে। এমনকি নতুন নেতৃত্ব তুলে এনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী কর্মীসভার আয়োজনও করা হয়।
তবে সেই কর্মীসভার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ছাত্রদলের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই। নতুন কমিটি আসার পথ বন্ধ করে নিজেদের আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘমেয়াদী করার অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান আহ্বায়ক পলাশ বার্নার্ড দাস এবং সদস্য সচিব ফরহাদ ইসলামের বিরুদ্ধে। এদিকে গত এক বছরে দলীয় ব্যানারে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কোন কার্যক্রম হাতে নিতে পারেনি হাবিপ্রবি ছাত্রদল। দলীয় ব্যানারের বাইরে এসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলে মেডিসিন বক্স প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভ্যান ভাড়া কমানো, নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন, হলে আয়রন মেশিন প্রদান, টিএসসিতে ন্যানো লাইব্রেরী স্থাপন করতে দেখা গেছে ছাত্রদলের কয়েকজনকে।
নিজেদের নানারকম পরিকল্পনা থাকলেও দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে তার যথাযথ প্রয়োগ করতে পারছেননা বলে অভিযোগও করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ। এসব বিষয়ে নিজের হতাশা তুলে ধরে সর্বপ্রথম ফেসবুকে পোস্ট করে নিজেকে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন ছাত্রদলকর্মী মীর নিশাত রহমান। এরপর একইভাবে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে আরও অনেককেই। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল কর্মী সুজন ইসলাম বলেন, হাবিপ্রবিতে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক, শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে রাজনীতি করতে চাচ্ছে তারা সবাই হতাশ। আমাদের সব ভালো কাজ কিছু ব্যক্তির জন্য বিফলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জুনিয়ররা রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। আমার মেধা, আমার বুদ্ধি, আমার সৃষ্টিশীল চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার মতো কাউকে এই মুহুর্তে ক্যাম্পাসে খুঁজে পাচ্ছি না। তাই নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আমি হাবিপ্রবি ছাত্রদলের দলীয় কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। ছাত্রদলের আরেক কর্মী সাকিব হোসেন বলেন, হাবিপ্রবি ছাত্রদল সুসংগঠিত না হওয়ার অন্যতম কারণ এই ডেট এক্সপায়ার কমিটি। এভাবে চলতে থাকলে ডেডিকেটেড কর্মীরা হারিয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রদলের আরেক কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি প্রকাশ করতে পারেনি। অন্যদিকে বর্তমান আহবায়ক কমিটির অধিকাংশ ছাত্রনেতাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন। শাখা ছাত্রদলের উপর বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে ব্যতিরেকেই সম্পন্ন করে থাকার নজির রয়েছে৷ এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল স্তরের কর্মীরা বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে হতাশ৷তাই সবাই বর্তমান আহবায়ক কমিটির সাথে কোনো ধরণের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত না থাকার ঘোষণা দিয়েছে৷এসব বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জকির উদ্দীন আবিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ছাত্রদল অনেক বড় একটা সংগঠন।
এতো বড় সংগঠনের কমিটি করতে চাইলে যোগ্য নেতৃত্ব যাচাই বাছাইয়ে কিছুটা সময় লাগে। তবে দপ্তর থেকে আমাদের ওপর নির্দেশনা আছে দ্রুত শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব খুঁজে বের করার। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই কমিটি দিতে পারবো।
এ বিষয়ে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক পলাশ বার্নার্ড দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন। হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সদস্য-সচিব ফরহাদ ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution