
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সব কটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক আহুত শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বুধবারের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এতে করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের মতো নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) শুরু হয়।
গত বুধবার পর্যন্ত তিন বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা তিন দফা দাবি আদায়ে গত বুধবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার পরীক্ষা গ্রহন থেকে বিরত থাকেন সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফলে উপজেলার কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা হয়নি। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেও শিক্ষক-শিক্ষিকারা পরীক্ষা গ্রহন না করায় পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
শহরের বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে এলেও পরীক্ষা না নেওয়ায় তারা ফিরে যান। এ সময় কথা হয় শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার রহমতউল্ল্যাহ্ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার তানহার সঙ্গে।
সে জানান, তাঁর মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে আসার পর স্যারেরা বললেন আজ পরীক্ষা বন্ধ। তাই সে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক রাবেয়া খাতুন বলেন, আজ (গতকাল) মেয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। মেয়েকে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছিলাম। বিদ্যালয়ের স্যারেরা আজ পরীক্ষা নিবেন না বলে জানান। ফলে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি জানান, এভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এসে পরীক্ষা গ্রহন না করলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে যায়।
নয়াটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। পরীক্ষা গ্রহন না করায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এ সময় কথা হয় বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মো. সামিউল ইসলামের সঙ্গে। সে জানায়, আজ (গতকাল) তাদের বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। স্যারেরা পরীক্ষা নিলেন না, তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
রহমতউল্লাহ্ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজা খাতুন জানান, সহকারি শিক্ষকদের চলমান শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বুধবার তাঁর বিদ্যালয়ের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। একই কথা বলেন রামকৃষ্ণ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমান চৌধুরীও।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং লক্ষণপুর চড়কপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিনুর রহমান বিপু জানান, আমাদের তিন দফা দাবি আদায়ে শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। তাই আজ কোন পরীক্ষা গ্রহন করা হচ্ছে না।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution