
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায় ফসলি জমি থেকে এক্সাভেটর (ভেুক) মেশিন দিয়ে চলছে মাটি খনন। পরিবেশবিদরা মনে করছে, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেই যত্রতত্র মাটি খনন চলছে। এদিকে মাটি খননের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কি জানতে চাইলে রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলতে পারবেন। উনার নির্দেশ ছাড়া তিনি কিছু করতে পারবে না। বা ইউএনও না বলা পর্যন্ত তিনি এ ধরনের বিষয়ে অভিযানে যেতে পারবেন না। তাছাড়া ইউএনও’র নির্দেশে মাটি খনন করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনে যা বলা আছে, এই আইনের ধারা ৪ ও ৫ এ বর্ণিত বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোনো বিধান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সিকিউটিভ বডি) বা তাহাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ১৬ এবং উক্ত অপরাধে ব্যবহৃত ড্রেজার, বালু বা মাটিবাহী যানবাহন বা সংশ্লিষ্ট সামগ্রী সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে তবে মাটি খননের হিড়িকের বিষয়ে ব্যবস্থা কি জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগমের সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
শনিবার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ বলিদ্বাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মিঠু বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি ফসলি জমি থেকে এক্সাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি খনন করছেন। মাটিগুলো ট্রাক্টরে করে অন্যত্রে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় আতিক নামে ভেকু গাড়ির মালিক বলেন, মাটি খননের বিষয়ে ইউএনও’র অনুমতি নেওয়া আছে সেই অনুমতির কাগজ দেখতে চাইলে তা দেখাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন আতিক। একইভাবে উপজেলার নেকমরদ এলাকার চামারদিঘী কুমুরগঞ্জ, হাটগাঁও, ধর্মগড়, কাশিপুর লেহেম্বাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটা ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, প্রত্যেক বছর ফসলি জমি কমছে পুকুর খননের কারণে। এভাবে জমি কমতে থাকলে কৃষি আবাদে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে মাটির কাটার বিষয়ে শনিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মজিবুর রহমানকে ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে বলেন, ইউএনও’র নির্দেশ ছাড়া তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। তার ব্যবস্থা নেওয়ার কোন উপায় নেয়। ইউএনও অনুমতি দিলেই কেবল তিনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগমকে শনিবার সকালে এবং বিকেলে একাধিকবার তার সরকারি ফোন নম্বরে ফোন দিলেও তিনি তাতে কোনো ধরনের সাড়া দেননি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution