
রংপুরের বদরগঞ্জে বস্তাবন্দী অজ্ঞাত নারীর পরিচয় সনাক্ত করেছে পুলিশ। তার নাম রিয়া। বাড়ির ঠিকানা দেওয়া আছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। ঘটনার তিনদিন পর বদরগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেও স্বজনদের কাউকে খুজে পায়নি বলে জানান বদরগঞ্জ থানার ওসি। সে কিভাবে বা কার সঙ্গে বদরগঞ্জ এসেছে তার সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও কোন কুল-কিনারা বের করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ কাজ করছে। সার্ভার সমস্যার কারণে পরিচয় সনাক্ত করতে তিন দিন সময় অতি বাহিত হয় বলে জানান ওসি।
নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্রে সুত্রে জানা যায়, তার নাম রিয়া। বাড়ী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বারপাড়া এলাকার ইন্দারগাতী। পিতা নাম মোকতার আলী হাওলাদার। মায়ের নাম হাসিনা বেগম। সেখানে তার বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করা রয়েছে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার দক্ষিণ আজমপুর এলাকায়। জন্ম ১৯৮৮ সালের ১ মার্চ। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে রংপুরের বদরগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘন কুয়াশায় ভোরের দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের ট্যাক্সেরহাট এলাকার ভেলাকোবা নামক স্থানে বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার মুখ খুলে ৩০ থেকে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করে তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা ওই এলাকায় মরদেহ ফেলে চলে যায়। নারীর পরণে ছিল কালো জমিনের ওপর সাদা ডোরাকাটা বোরকা। মেহেদীতে রাঙা হাতে ছিল ঘড়ি। ওই সময় এলাকাবাসী ও পুলিশ ওই নারীকে সনাক্ত করতে পারেনি। ওইদিন মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বদরগঞ্জ থানা সুত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত পরিচয়র ওই নারীর সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক তথ্যই পুলিশের হাতে এসেছে। স্বজনদের খোজে ইতিমধ্যে নিহতের দুই ঠিকানায় প্রচার-প্রচারণা করাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ বর্তমানে বদরগঞ্জ থানায় রাখা হয়েছে।
এর আগে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় ডাটাবেইস সেন্টারে পাঠানো হয়।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, জাতীয়পরিচয়পত্রের সুত্র ধরে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় তার কোন আত্নীয়-স্বজনের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বজনদের খুঁজে পাওয়া গেলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। স্বজনদের শেষ পর্যন্ত পাওয়া না গেলে আঞ্জুমানে মফিদুলের ইসলামের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হবে বরে জানা তিনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution