
রংপুরের পীরগঞ্জে প্রান্তিক খামারিদের জন্য উন্নত জাতের গবাদি পশু উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হলেও কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। উপজেলার লালদিঘি ফতেহপুরে অবস্থিত বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনিল্যাব। সরকার প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কেন্দ্রটি থেকে কোনো সুফল
পাচ্ছেন না খামারিরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে ‘কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এখানে উন্নত মানের সিমেন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভ্রণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের আওতায় অফিস কাম ল্যাবরেটরি, সিমেন কালেকশন শেড, বুল শেড, ফিড গোডাউন, বুল কাফ প্যান শেড এবং ৩০টি আইসোলেশন শেড নির্মাণ করা হয়। তবে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র একবার সিমেন উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ষাঁড় আনা হলেও নিয়মিত কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রের সব ষাঁড় সাভার ডেইরি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে নেই কোনো ষাঁড়, নেই গবেষণা বা উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনিল্যাবের ইনচার্জ ফেরদৌস হাসান বলেন, আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এখানে কাজ শুরু হবে। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই কোটি ডোজ সিমেন। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উৎপাদন করে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ লাখ ডোজ, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় আনুমানিক ১০ লাখ ডোজ।
বাকি চাহিদা পূরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিটটি পূর্ণমাত্রায় চালু করা গেলে দেশের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতো এবং হাজারো খামারি সরাসরি উপকৃত হতেন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও অব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution