
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলার অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৩৯) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই যুবককে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনরা। নিহত হুমায়ুন কবির উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, ইমারজেন্সিতে কর্তব্যরত সেকমো (ঝঅঈগঙ) ডা. মাহাফুজ ইসলাম সিনিয়র চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই রোগীকে ভুলভাবে ভর্তি করান। ভর্তি করার পর প্রায় এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীকে দেখতে আসেননি। এরই মধ্যে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনার পরও দীর্ঘ সময় চিকিৎসক না দেখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গাফিলতির কারণে রোগীর প্রাণহানি ঘটে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, রেফার করার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই হারুনুর রসিদ সাংবাদিকদের জানান, “রোগীর অবস্থা জরুরি হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে সেকমো মাহাফুজ তাকে ভর্তি করেন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ইমারজেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো ডাক্তার বা নার্স রোগীর কাছে আসেনি।” এ বিষয়ে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, “সত্যিকার অর্থেই হেব্বি চেইস্ট পেইন রোগীকে এই মেডিকেলে ভর্তির কোনো সুযোগ ছিল না। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজ ভুলভাবে রোগীকে ভর্তি করিয়েছেন। এমনকি ভর্তি করানোর পর আমাকে কিছুই জানাননি। যার কারণে আমিও চিকিৎসা দিতে পারিনি। পরবর্তীতে রোগীটি মারা যায়—এ ঘটনায় আমি মর্মাহত।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হেব্বি চেইস্ট পেইন রোগীকে এখানে ভর্তি করার কোনো সুযোগ ছিল না। তার সমস্যার জন্য এখান থেকে সরাসরি রেফার করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইমারজেন্সির কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজ ভুলবশত ভর্তি করিয়েছেন এবং আমাকে বা অন্য কোনো মেডিকেল অফিসারকে বিষয়টি জানাননি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। রোগীর স্বজনরা যদি লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মেডিকেল স্টাফ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution