
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী - ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি প্রচার প্রচারণাও ততই জমজমাট হয়ে উঠছে। তবে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে এ আসনটি বরাবরেই জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। এবারেও আসনটি তাদের দখলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে গোটা নির্বাচনি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা ধারনা করা হচ্ছে এ আসনটিতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
উত্তর জনপদের ছয়টি উপজেলা নিয়ে নীলফামারী জেলা। উপজেলাগুলো হচ্ছে সদর, সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, ও কিশোরগঞ্জ। আর এ সব উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের চারটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে নীলফামারী জেলা সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ১৫, নীলফামারী - ৪ (সৈয়দপুর- কিশোরগঞ্জ) গঠিত হয়েছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো এ আসনে নির্বাচিত হচ্ছেন, ১৯৮৬ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এ) রওশন আলী দুলু মিয়া, ১৯৯১ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ দলীয় ঐক্য জোটের হয়ে ন্যাপ মনোনীত অধ্যাপক আব্দুল হাফিজ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির(এ) ড. মো. আসাদুর রহমান, ২০০১ সালে বিএনপির অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের কর্নেল (অবঃ) এ, এ, মারুফ সাকলান, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এ) আলহাজ¦ মো. শওকত চৌধুরী, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আহসান আদেলুর রহমান এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্র্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলহাজ¦ মো. সিদ্দিকুল আলম।
এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র মো. আব্দুল গফুর সরকার (প্রতীক ধানের শীষ), জাতীয় পাটির (এ) মো. সিদ্দিকুল আলম (প্রতীক লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম (প্রতীক দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো.শহিদুল ইসলাম প্রতীক হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (প্রতীক মাকর্সবাদী) মো. মাইদুল ইসলাম (প্রতীক কাঁচি), বাংলাদেশ জাতীয় পাটির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন (প্রতীক কাঁঠাল), স্বতন্ত্র মো. রিয়াদ আরফান সরকার (প্রতীক ফুটবল), এস এম মামুনুর রশিদ (প্রতীক মোটরসাইকেল) ও জোবায়দুর রহমান হীরা (প্রতীক ঘোড়া)।
গত ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার ও নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান কর্তৃক নীলফামারী-৪ আসনের উল্লিখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর প্রতীক বরাদ্দের পরদিন অর্থাৎ গত ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পুরোদমে তাদের নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা নেমে পড়েন। নয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই তাদের দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থকও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাক কাটা ভোর থেকে থেকে গভীর রাত অবধি গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুুুঁটে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিজের প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। করছেন উঠান কিংবা খুলি বৈঠক। সেই সঙ্গে চলছে নির্বাচনি সভা- সভাবেশ। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে বেলা ২টার পর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইকেও প্রচার প্রচারণা চলছে। এতে করে গোটা নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আমেজ ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি পাড়া মহল্লা, রাস্তা-ঘাট, ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল রেস্তোরাঁ সর্বত্র নির্বাচনি ব্যাপক আলাপ আলোচনা হচ্ছে। এসব নির্বাচনি আলাপ-আলোচনায় দল ও প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুল চেরা বিচার বিশ্লেষন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারী-৪ আসনে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২৪ হাজার ২১৭জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২৪ হাজার ৪২৭জন। আর সৈয়দপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৪ জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২২হাজার ৫৫৫ জন। এছাড়াও পাঁচজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution