
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য কিনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও অনেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যান। বুধবার দুপুরে শহরের হাওয়ালদারপাড়ায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের একটি পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভা ১৫টি ওয়ার্ড ও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন মিলে টিসিবির ডিলার (পরিবেশক) রয়েছেন দশজন। এদের মধ্যে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের জন্য চার জন এবং পাঁচটি ইউনিয়নের জন্য ছয়জন ডিলার রয়েছে। আর সৈয়দপুর পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে টিসিবির কার্ডধারী রয়েছেন ১৮ হাজার ২২১জন।
সৈয়দপুর পৌরসভা চারজন ডিলার ১৫টি ওয়ার্ডের টিসিবির কার্ডধারীদের পণ্য সরবরাহ করে থাকে। এদের মধ্যে মেসার্স সাকিল ট্রেডার্স পৌরসভা ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিক্রি করে। মেসার্স সাকিল ট্রেডার্স পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার শহরের হাওয়ালদারপাড়া এলাকায় একটি পয়েন্ট টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে। দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায় ওই পয়েন্টটিতে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে আসা নানা শ্রেণি পেশার মানুষের দীর্ঘ লাইন। নারী ও পুরুষ মানুষ পৃথক পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেলে, পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা (বুট), এক কেজি চিনি ও দুই শ’ গ্রাম চা পাতা নিয়ে একটি প্যাকেজ। এ প্যাকেজটি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬৯০ টাকা। এটি বাইরে বাজার থেকে কিনতে হলে ১ হাজার টাকার বেশি লাগার কথা। আর টিসিবির ডিলারের পয়েন্ট থেকে কিনতে তাদের ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে। টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সৈয়দপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়ার রিকশা ভ্যানচালক মো. জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, টিসিবির পণ্য কিনতে সেই সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন দুপুর ১২টা। এখনও পণ্য কিনতে পারেনি। তিনি জানান, প্রতিদিন রিকশা ভ্যান চালিয়ে রোজগারে চলে সংসার। অথচ আজ সকাল থেকে কোন যাত্রী কিংবা ভাড়া পরিবহন করতে পারেনি।
এ সময় পাশেই তাঁর রিকশাভ্যানটি তালাবদ্ধ করে রাখা ছিল। জয়নুল আবেদীনের মতো সৈয়দপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে আসা মাজেদুল হক প্রামানিক, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রহজান আলী, রজব আলী ও মাহমুদা খাতুনেরও একই অবস্থা। তারাও দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। মাহমুদা বেগম জানান, রোজা রেখে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও অনেক কষ্টকর।
টিসিবির পণ্য না নিয়েই ফিরে যাচ্ছিলেন মো. একরামুল হক । তিনি জানান, রোদের মধ্যে অনেক সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে খারাপ লাগছে। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি আজ। কালকে আবার আসবো। টিসিবির পণ্য কিনতে আসা অনেক বৃদ্ধা নারী পুরুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে রোদের মধ্যে বসে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে একজন দিন মজুর আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। টিসিবির পণ্য কিনতে এলে ওই দিন আর কোন কার্জকর্ম করা সম্ভব হয় না।
মেসার্স সাকিল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো. সাকিল বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ এক ১শ’র বেশি টিসিবির কার্ডধারী মানুষকে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। আমি সব সময় বেশি কর্মচারী লাগিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের মাঝে পণ্য সরবরাহ দিতে চেষ্টা করি। তবে পণ্য দিয়ে টাকা গুনে নিতে একটি সময় লাগে। অনেকে আবার ভাংতি টাকা নিয়ে আসেন না। তাদের ভাংতি দিতেও একটু সময় লাগে। সকলেই যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খুচরা করে নিতে আসেন ,তাহলে খুব তাড়াতাড়ি পণ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution