
মায়ের কাছ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সিরাজুল আল শামস (৭) নামক এক শিশুকে নির্মম ভাবে হাত এবং পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যা করেছে তারই আপন চাচাতো ভাই আমানুর ইসলাম (২১)। নিহত ঐ শিশু উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে।
ঘাতক আমানুর ইসলাম একই এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। শুক্রবার রাতে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।
শিশুটির মা শাম্মী আক্তার বলেন- শুক্রবার সন্ধায় তার ছেলেকে তার বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার স্বামীর বড় ভাইয়ের ছেলে আমানুর ইসলাম। পরে ছেলের বাড়ীতে ফিরে না আসলে খোজা খুজি করা কালে রাত ৯টায় ঐ শিশুর বাড়ীর পাশের একটি ভুট্টার ক্ষেতে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করে। দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ঘটনার অভিযুক্তের বরাত দিয়ে তিনি বলেন- ঘাতকের বাড়ির সামনের অংশের সম্পত্তি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিহত ওই শিশুর বাবা কিছু দিন আগেই ক্রয় করেন। এছাড়াও চাচার আর্থিক অবস্থা তাদের চেয়ে ভাল থাকায় চাচাতো ভাইকে ওই সম্পত্তির লোভে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমানুর ইসলাম আমান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল রাতে মায়ের কাছ থেকে নামাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির অদূরে একটি মাদ্রাসা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ওই মাদ্রাসার দেয়াল ঘেঁষে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গলা ও হাত পায়ের রগ কেটে ভুট্টা ক্ষেতে রেখে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘসময় বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভুট্টার ক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমানুর ইসলাম (২২) তার বাবা মজিদুল ইসলাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ পরে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আমানুর ইসলাম। তার দেওয়া তথ্যমতে শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) জানান, ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে থানায় নেয়া হলেও অন্য দুজনের সম্পর্ক না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution