
আগামীর প্রজন্ম এক সময় বলতেই পারবেনা এটা আবার কি ? কোন প্রযুক্তি। শুধুমাত্র কাগজ কলমে আর জাদুঘরে দেখা মিললে ও গ্রাম পল্লীর কিছু স্থানে এখন উঁকি দিচ্ছে আশির দশকের পানি সেচের বাশের আর এবং মাটির কুয়া। ৪০ বছর আগে গ্রাম পল্লীতে মাটির কুয়া থেকে বাঁশের আরবা (টার)দিয়ে পানি সেচ দিয়ে মৌসুমে ধানের চাষাবাদ করা হতো। মাটিতে ২০ থেকে ৩০ ফিট কুয়া খনন করে ১২ ফিটের একটি বাঁশের তৈরি খুটি মাথায় ১৪ ফিট লম্বা একটি বাঁশ ভিতর দড়ি দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হতো। কুপবা (কুয়া) থেকে পানি উঠানের মতো ৩০ ফিট লম্বা চিকন বাঁশ বা (ছড়া) এর সাথে বালতি বেধে রাত ভর কুয়া থেকে পানি উত্তোলন করে আবাদি জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ দেয়া হতো। লম্বা বাঁশ বা (ডাপের) এক মাথায় ১০/১২ কেজি ওজনের ভারী জাতীয় কিছু বেধে দিয়ে আর এক মাথায় বালতি ওঠানোর চিকন বাঁশের মাথায় বালতি বেধে দিয়ে পানি উঠানো হয়। মাটির কুয়ার উপরের মুখ ২ ফিট গোলাকার এবং নিচের অংশে ৫ থেকে ৮ ফিট গোলাকার করে খনন করা হতো কুপটি। এক সময় লোকজনের কৃষি জমিতে সেচব্যবস্থার একমাত্রভরসাছিলমাটিরকুয়াএবংবাশেরআর।
সরেজমিনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মাটির কুয়া থেকে বাঁশের আর দিয়ে বীজ তলায় কৃষক আমির আলী পানি সেচ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আগের দিনে দু'জন মানুষ একদিনে ২০ থেকে ৩০ ফিট একটি মাটির তৈরি কুয়া খনন করেছি। এলাকার লোকজন প্রায় আবাদি জমির মাঝখানে বা জমির আইলে এই কুয়া খনন করতো। একটি কুয়া ৩/৪ বছর জমিতে সেচ কাজে জন্য ব্যবহার করা যেতো। বর্ষা মৌসুমে পানির সাথে কুয়া গুলোর উপর দিয়ে পানি থৈথৈ করতো। পানির সাথে কাদা মাটির কুয়া গুলোতে জমিয়ে থাকতো। সেচ মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা কুয়া থেকে কাদা মাটি বা (গলা) পরিস্কার করতেন।
কাদামাটির সাথে মাগুর শিং জাতের দেশীয় মাছের খেলা হতো। একটি কুয়া থেকে ২০ হইতে ৩০ শতক ইরি ধান আবাদি জমিতে পানি সেচ দেয়া যেতো। একই এলাকার আরেক কৃষক জোয়েদ আলী জানান, আগের মানুষ প্রতিদিন ফজরের নামাজের আগে থেকে বালতি হাতে নিয়ে ধানের জমিতে পানি সেচদিতে যেতো। ভোর রাত থেকে কৃষি মাঠে বাঁশের ক্যার কেরানি শব্দ হতো। চাষিরা ভোররাত থেকে সকাল ৯ পর্যন্ত কুয়া থেকে পানি সেচ দিয়ে বাড়িতে ফিরতো।দিনের বেলায় রোদের কারনে কুয়াতে পানি কম থাকে। কুয়া থেকে পানি সেচ দেয়ার উপযুক্ত সময় ভোর হইতে সকাল ৯, আবার বিকাল ৪ টা হইতে রাত ভর পানি সেচ দেয়ার উত্তম সময়। তিনি আরও বলেন, এ যুগের ছেলে মেয়েরা কুয়া এবং বাঁশের আর সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। সেই সময়ের সেচ যন্ত্র ছিল কম এবং কৃষি কাজের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাহায্যে কুয়া থেকে পানি উত্তোলন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution