
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্টোল পাম্পগুলোতে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালকেরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনে তেল সরবরাহ দিতে পেট্টোল পাম্প কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। কখন কখনও মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে পাম্প কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুমুল বাকবিতন্ডা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ৩৮টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় ফিলিং স্টেশন রয়েছে নয়টি। এ সব ফিলিং স্টেশনগুলো হচ্ছে, কুন্দল এলাকায় মেসার্স ইকু ফিলিং স্টেশন, কামারপুকুরে মেসার্স আইয়ুব ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স রাজা ফিলিং স্টেশন, শহরের নিয়ামতপুর বাস টার্মিনালে মেসার্স সুমনা ফিলিং স্টেশন, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকায় মেসার্স রওশন ফিলিং স্টেশন, সৈয়দপুর বাইপাস সড়কে মেসার্স খালেক ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স খাদিজা ফিলিং স্টেশন, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে মেসার্স নিশাত ফিলিং স্টেশন ও সৈয়দপুর- নীলফামারী সড়কে মেসার্স ঢেলাপীল ফিলিং স্টেশন। এ সবের মধ্যে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে রংপুর - দিনাজপুর মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। ফলে মহাসড়কের পাশে থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংগ্রহের জন্য সকল প্রকার যানবাহনগুলোর বেশি চাপ থাকে।
এদিকে, গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে মতো নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও জ¦ালানি তেল তথা ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে তেল সংগ্রহে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) শহরের কুন্দল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ইকু ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কার আগে কে তেল সংগ্রহ করতে পারেন এমন যেন প্রতিযোগিতা চলছে। মোটরসাইকেল চালকদের এমন প্রতিযোগিতায় তেল সরবরাহ দিতে পাম্পের মিটারম্যানরা চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি মোটরসাইকেল চালককে দুই শত টাকার বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রত্যাশিত তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকেরা।
মেসার্স ইকু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিতেন কুমার দাস জানান, পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ওয়েল ডিপো থেকে প্রতিদিন সীমিত পরিমাণে যে পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তা আমরা নিয়মিত গ্রাহকদের সরবরাহ দিচ্ছি।
সঠিকভাবে তেলের সরবরাহ তদারকি করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের কুন্দলে অবস্থিত ইকু ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার জনি রানা। তাঁর উপস্থিতিতে গতকাল রোববার সেখানে বেলা ১১টার পর থেকে তেল সরবরাহ শুরু করা হয়। তিনি জানান, পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল থাকলেও মানুষ তেলের জন্য অহেতুক হুড়োহুড়ি করছেন। সেখানে মোটরসাইকেলের তেল নিতে আসা শহরের কয়াগোলাহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মাসুমের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির।
তিনি জানান, আমার কলেজের পাশে মেসার্স খাদিজা ফিলিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু সেখানে তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তেল সংগ্রহে তাকে এখানে আসতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুই শত টাকার তেল সরবরাহ দেয়া হয় তাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, পেশাগত কারণে মোটরসাইকেলে আমাকে অনেক জায়গায় ছুঁটতে হয় প্রতিনিয়ত। অথচ পাম্প থেকে আমাকে দেয়া হলো মাত্র দুই শত টাকার তেল। এভাবে কি আর চাকরি করা সম্ভব হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution