
ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় রিফাইনারির শিলিগুড়ি মাকেটিং টার্মিনাল থেকে সীমান্তের বর্ডার অতিক্রম করে বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর হয়ে পার্বতীপুর ডিপোতে ৭ হাজার মে. টন ডিজেল জ্বালানি তেল পৌছেছে। শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির জন্য বিপিসির দিনাজপুরের পার্বতীপুরের পাইপলাইনে পার্বতীপুরে রিসিপ্ট টার্মিনাল (আরটি) পরিপূর্ন অটোমোশনে তেল রিসিভ টার্মিনালে উন্নতমানের রিফাইন ডিজেল জ্বালানি তেল জমা হয়।
মূলত কৃষি প্রধান উত্তরের ১৬ জেলায় নিরিবিছিন্নভাবে ও সারাবছর ডিজেল সরবরাহ রাখতেই এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। বিপিসির আওতাধীন জ্বালানি তেল সরবরাহের তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর নাম প্রকাশ্যে দায়িত্বশী এক কর্মকতা দৈনিক দেশ রুপান্তর কে বলেন, বর্তমানে ডিপোতে জ্বালানি তেল পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ডিপোতে জ্বালানি তেল ডিজেল ১ কোটি ৬২ লাখ লিটার, পেট্রোল ২ লাখ ৮০ হাজার এবং অকটেন ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার তেল মুজত রয়েছে।
সাশ্রয়ী উপায়ে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে পাইপ লাইনের মাধ্যমে আমদানি করা ডিজেল সংরক্ষনের জন্য পার্বতীপুর রিসিভ টার্মিনাল সাইডে ২৯ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতার ডিপো নির্মান করা হয়। এছাড়া ১০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। বিপিসির সূত্র জনায়, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রথম ৩ বছর ২ লাখ মে টন, পরবর্তী ৩ বছর ৩ লাখ মেট্রিক টন ও এরপর ৪ বছর ৫ লাখ মেট্রিক টন, অবশিষ্ট ৫ বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করবে।
এরপর চুক্তি নবায়ন নবায়ন করা হবে। না হলে পাইপ লাইনের মালিকানা বাংলাদেশের কাছে থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তজার্তিক বাজার থেকে তেল আনতে প্রতি ব্যারেলের প্রিমিয়াম প্রাইস পড়ে ১১ ডলার। এ পাইপলাইনের মাধ্যমে খরচ পড়বে ৫ দশমিক ৫০ ডলার। অথ্যাৎ প্রা ৬ ডলারের মত প্রিমিয়াম সাশ্রয় হবে। এক সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বড়বড় জাহাজে তেল চট্রগ্রাম বহিনোঙরে আসতো। সেখান থেকে ছোট ছোট জাহাজে খুলনা দৌলৎপুরে আসে। তারপর ব্রডগেজ লাইনে আনা হয় পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড অয়েল ডিপোতে। এখন সরাসরি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন দিয়ে এসব ঝামেলা ছাড়াই তেল আসছে।
ভারত সরকার এই পাইপলাইনের অবকাঠামো নির্মান করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার পাইপ লাইনের জন্য ভূমি বরাদ্দ ও রিসিভ ট্যাংক নির্মান করেছে। পাইপ লাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১২৬ কিলোমিটার ও ভারত অংশে ৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। পার্বতীপুর শহরের অদূরে রেল হেড অয়েল ডিপো সংলগ্ন ৬ দশমিক ৮০ একর জমিতে রিসিপ্ট টার্মিনালটি নির্মান করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন সংস্থা নুমালিগড় রিফাইনারী লিমিটেড এবং বাংলাদেশের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন।
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপিসির আওতাধীন জ্বালানি তেল সরবরাহের তিন কোম্পানির পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব দৈনিক দেশ রূপান্তর কে বলেন, গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর অভিমুখে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়। চতুর্থ দফায় আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসলো।
ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৮৪ ঘণ্টা সময়ে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হয়েছে। এরআগে তিন দফায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরে চার দফায় মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এলো। ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর (বিপিসি'র) আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution