
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬, ২:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ৯:৩০ পি.এম
গঙ্গাচড়ায় ফ্যাসিস্ট আ.লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পুনর্বহাল

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ১নং বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে পুনর্বহালের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, সমালোচনা ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে । ছাত্র-জনতা, সচেতন নাগরিকসহ বিভিন্ন মহল এ সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় মোহাইমিন ইসলাম মারুফের নাম এজাহার ভুক্ত হয়। ফলে মামলার পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। জামিনে মুক্তির পরও তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়মানুযায়ী পালন না করার ব্যাপক অভিযোগ উঠে ।
তার অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানীয় সেবা কার্যক্রম সচল রাখেন।
কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে আবারও চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হলে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন একজন নাশকতার মামলার আসামি, যিনি দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন, তাকে কীভাবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির পদে বসানো হলো?
এদিকে, তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গেছে, তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান পরিবর্তনের এই প্রবণতা স্থানীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় ছাত্র-জনতার ভাষ্য, যারা আন্দোলনের সময় জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের আবার জনগণের প্রতিনিধি বানানো মানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রহসন । তারা আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এবং অতীতের বিতর্কিত ভূমিকার পরও পুনর্বহালের এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ।
এবিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি যুগ্ন সমন্বয়কারী (দপ্তর) জীবন হোসাইন বলেন, গত সতের বছর আওয়ামী শাসনামলে বেতগাড়ী ইউনিয়নে আমরা যারা জুলুম ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল মোহািমিন ইসলাম মারুফ। তিনি সকলের উপস্থিতিতে আল্টিমেটাম দিয়ে আরো বলেন,আপনি পেক্ষাপট পরিবর্তনের সুবাদে দল পরিবর্তন করেছেন সুবিধার জন্য। কিন্তু আমরা তা হতে দিতে পারি না।
এবিষয়ে মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, আমি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। সরকারী নির্দেশে আমি দায়িত্ব থেকেসরে গিয়েছিলাম আবার সরকারী নির্দেশেই স্ব পদে পুনর্বহাল হয়েছি।এখানে ব্যক্তি ইচ্ছার বিষয় নাই।
উপজেলা বিএনপি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল বলেন, মারুফ চেয়ারম্যান প্রকৃতপক্ষে আওয়ামীলীগ ও নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে তার মতো সুবিধাবাদীকে বিএনপিতে ভিড়িয়ে আওয়ামীলীগ পূনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করেছে। আমি তার চেয়ারম্যান পুনর্বহালের বিষয়ে তিব্র নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় স্বাক্ষরিত অনুলিপি পেয়েছি। আজকে বিভিন্ন মাধ্যমে তার পরিষদে যোগদানের বিষয়টিও জেনেছি। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান গ্রহণ জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution