
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬, ৭:৪২ পি.এম
ফুলবাড়ীতে চৈত্রের সকালে ঘনকুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন

চৈত্রের সকালে শিশির বিন্দু ও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর জনপদ। ঋতু পরিবর্তনে শীত বিদায় নিলেও এ জনপদে মাঝে মধ্যেই দেখা মিলছে ঘনকুয়াশা এবং ঠান্ডার অনুভূতি। অন্য বছরগুলোতে সাধারণত চৈত্র মাসে তাপমাত্রা বাড়ে, থাকে কাঠফাটা তীব্র রোদ। তবে এবছর এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে উত্তর জনপদের এ উপজেলায়।
প্রকৃতিতে এখনও চৈত্র মাস চললেও শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর ৫ টা থেকে সকাল সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত উপজেলার চারপাশ শুভ্র কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন দেখা যায়। কুয়াশার চাদরে পথঘাট -ফসলের মাঠগুলো ঢেকে যায় সাদা আবরণে যেন এক শীতের সকালের দৃশ্যপট দেখছেন জনপদের মানুষ। তবে এই কুয়াশায় হালকা শীতের তীব্রতা ছিল। পরে সকাল ৮টার মধ্যেই কুয়াশা ভেদ করে উঁকি দেয় সূর্য। এরপর পর দুপুর দুইটা পর্যন্ত আকাশে সূর্যের আলো ছড়াতে দেখা যায়নি। দুপুরে পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও কিছুটা ভ্যাপসা গরমে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, শীতকালীন মৌসুমে ঘনকুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্র মাসে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক। সকালজুড়ে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও গাছপালা সাদা আস্তরণে ঢেকে যেতে দেখা গেছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহ ধরে বিরূপ আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কখনো ঝড়-বৃষ্টি, কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো গরম কিংবা হঠাৎ কুয়াশা—সব মিলিয়ে এক অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে উপজেলাজুড়ে।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকায় কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, চৈত্র মাসে এরকম কুয়াশা আগে দেখিনি। শুক্রবার সকালে যখন কুয়াশা দেখি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি ঠিক কিন্তু ভাই কথা আছে, চৈত্রে কুয়া, ভাদ্রে বান, নরের মুন্ড গড়াগুড়ি জান। তিনি আরও জানান দিন যতই যাচ্ছে ততই সব কিছুতে পরিবর্তন আসছে।
একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ইউসুফ খন্দকার জানান, চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা দেখিনি। শআজকের সকালে না অনেক কুয়াশা দেখা গেছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহ ধরে সকালে কুয়াশা দেখা গেছে হালকা। এই দুই কৃষক আরও জানান বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাতে কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেই সাথে গায়ে হালকা শীতের পোশাক পরিচ্ছদ এখনো ব্যবহার করছি।
জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকালে জেলা জুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল এটা ঠিক৷ তবে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কারণে কুয়াশার সম্পর্ক নেই। তিনি জানান শীত শুরু আগেও এমন কুয়াশা দেখা যায়, আবার শীত বিদায়ের পরও এরকম কুয়াশার দেখা মেলে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেহেতু সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে যার কারণে আবহাওয়ার মধ্যে একটা পরিবর্তন হওয়ায় এ ধরনের কুয়াশা দেখা দেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution