
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট এবং এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেলের পাম্পগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না অনেক ভোক্তা। অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস।
শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও গ্যাস পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি গ্যাস, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অধিকাংশ সময় পাম্পগুলোতে ‘পেট্রোল নাই, অকটেন নাই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। এতে করে তেল ও গ্যাসবাহিত সাধারণ যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “সপ্তাহে বেশির ভাগ সময় পাম্পে লেখা থাকে পেট্রোল নাই ও অকটেন নাই। যেদিন তেল দেয় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনা। কাজের জন্য বের হয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনা। এতে আয়-রোজগার কমে গেছে।” পেট্রোল ও অকটেন সংকট প্রসঙ্গে স্থানীয় এনজিও কর্মী মমদেল ইসলাম বলেন, “বর্তমান তেল সংকট শুধু পরিবহন খাতেই নয়, সামগ্রিক জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করি, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করি, তাদের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের অভাবে সময়মতো নির্ধারিত স্থানে যেতে পারছি না, ফলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।
তাই দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।” এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, “উপর থেকে সরবরাহ কম আসছে। আমরা চাইলেও পর্যাপ্ত তেল দিতে পারছি না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম।”
এদিকে, এলপিজি গ্যাসের বাজারেও চলছে চরম অস্থিরতা। সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সিলিন্ডার প্রতি ৩শ থেকে ৪শ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শিক্ষক কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, “বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামের অনেক পরিবার এখন বিকল্প হিসেবে জ্বালানি কাঠ বা অন্যান্য উৎসের দিকে ঝুঁকছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য-দুই দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।” গৃহিণী রিনা বেগম বলেন, “গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে রান্না করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত দামে কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।” একাধিক গ্যাস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরবরাহ কম থাকায় তারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতনমহল বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে জনজীবনের এই স্থবিরতা আরও গভীর আকার ধারণ করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, “পেট্রোল ও অকটেনের সংকট এবং এলপিজি গ্যাস অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করছি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution