
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা (সবজি) চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে লাঠি পেটার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের (বংশিপাড়া) দাঁতভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী।
বুধবার দুপুর সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, দাঁতভাঙ্গা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা (সবজি) চাষ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে ওই খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় ছালেহা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় মারপিট করা হয় ওই নারীকে। তবে ঘটনাটিকে চুরির শাস্তি হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই এটিকে অমানবিক ও আইনবহির্ভূত নির্যাতন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরহাদ হোসেনসহ আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে আমাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে আমার স্বামীকে খবর দেন। এ সময় আমাকে বেঁধে রাখা অব¯’ায় আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে চুরি অপবাদ দেন ও ঘটনা¯’লে আমার স্বামী আসার পর তাকেও ওই মিথ্যা চুরি অপবাদ দিয়ে মারধর করতে বলেন তারা।’
ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারতে না চাইলেও আমার স্বামীকে মারপিট করার জন্য বাধ্য করেছেন তারা। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে আমি ও আমার স্বামীর মানহানী করার জন্য তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগি ওই নারী।’
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামন থেকে আমাকে জোর করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে আসেন। এসে দেখি গাছ বাগানে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গাছে সাথে বেঁধে রেখেছে। আমার সামনেও কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় আমাকেও মারধর করতে বলেন সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে দুইটা চড় মারেন ও আমাকে বাঁধার জন্য এগিয়ে আসেন তার লোকজন। এতে নিরূপায় হয়ে আমার স্ত্রীকে কয়েকটি আঘাত করি।’
এ ঘটনাটি নিয়ে কথা হয় সবজি খেতের মালিক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছালেহা নামের ওই নারী প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটান। মঙ্গলবার আমার খেত থেকে করলা (সবজি) চুরির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বলা হয়, তুই এখন তোর বউয়ের বিচার করে নিয়ে যা। পরে ওই নারীর স্বামী তাকে মারধর করে নিয়ে যান।’
রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution