
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বাংলাগড় হাটে একটি পুকুর দখলে নিয়েছে ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পুকুরটি ব্যক্তি মালিকানা হলেও তারা সরকারি পুকুর দাবি করে পহেলা বৈশাখের দিন দখল করেছেন। পুকুর দখলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক সুভানসহ বিএনপির ইব্রাহিম,লালুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ওই পুকুরটির মালিক দাবীদার আ:হক বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,থানা, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাণীশংকৈল পাশ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার জসাইপাড়া এলাকার মৃত মজির উদ্দীনের ছেলে আ:হক পৈত্রিক সুত্রে রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের বাংলাগড় হাট এলাকার নরগাঁও মৌজার সিএস-১২৬ ও এস এ -১৪৬ দাগ নং-১২০/৬৬০ নম্বর।
এ দাগের ২ একর ৮শতক জলকরের মালিক। দীর্ঘদিন ধরেই পুকুরটি তার দখলে। হঠাৎ করে বিএনপির নেতারা এটিকে সরকারী পুকুর বলে পহেলা বৈশাখের দিন তাদের লোকজন পুকুরে নামিয়ে মাছ ধরে নেয়। বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। পুকুর মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৬ এপ্রিল ওই পুকুর এলাকায় সরেজিমেন গেলে সেখানে পুকুরের মালিকের লোকজনের পাশাপাশি নেতারাও উপস্থিত হওয়া শুরু করে।
এক পর্যায়ে সেখানে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবেদকের কাছে এসে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। এবং পুকুরটি খাস বলে পহেলা বৈশাখের দিন উৎসুক জনতা এখানে মাছ ধরেছে বলে জানান। তবে তিনি ক্যামারার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে পুকুর দখলের বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে চাইলে বিএনপির নেতাকর্মিদের উৎশৃঙ্খলার কারণে অনেকে মুখ খুলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে বলেন, বিএনপি নেতা রুবেল, জাহাঙ্গীর, সুভান অনেকদিন থেকেই পুকুরটি দখলের চেষ্টা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখের দিন তাদের লোকজন নামিয়ে জ্বাল ও হাতলিয়ে পুকুর থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ধরা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, তারা পুকুর দখল করেননি। তবে সাধারণ মানুষ সরকারী পুকুর হিসাবে পহেলা বৈশাখের দিন মাছ ধরেছে ছোট ছোট তেলাপিয়ার বাচ্চা।
এখন পুকুরটি উন্মুক্ত আছে পুকুরটি সরকারী কিনা তা খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এদিকে থানায় অভিযোগের পেক্ষিতে ১৬ এপ্রিল বিকেলে এস আই মিরাজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনা তদন্ত করতে গেলে সেখানেও খুব উত্তেজনা সৃষ্টি করে বিএনপির অভিযুক্ত নেতারা। ঘটনার স্বাক্ষী এবং তাদের বিপক্ষের লোকজনকে মারপিট করাসহ নানান হুমকি দেয় তারা। এস আই মিরাজ বলেন, আমাদের সামনে তারা খুব উত্তেজিত হচ্ছিল। তবে সেটি আমরা রুখে দিয়েছি। ঘটনাটি ওসিকে জানানো হয়েছে। রাতোর ইউনিয়নের ভুমি কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম বলেন, সরকারি পুকুর হলে ইজারায় দেওয়া হতো।
যেহেতু ইজারা দেওয়া হয়নি। পুকুরটি এখনো ব্যক্তিমালিকানায় আছে ।তাহলে সে বিষয়ে কোন তথ্য আপাতত দেওয়া যাচ্ছে না। খোজ খবর নিয়ে দিতে হবে। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বকুল মজুমদার বলেন, বিএনপি কোন অন্যয় কর্মকান্ডের দ্বায় দায়িত্ব নেবে না। জবর দখলের একেবারে আমরা বিরুদ্ধে। যদি ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা এমন কোন দখল বাণিজ্য জড়ায় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution