
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের খেয়া ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ। এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে।
সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ভটভটি দিয়ে বালু পরিবহন কওে বিক্রি হয়। নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম নামের তিনব্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে পাউবো নদেও ভাঙন রোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি হচ্ছে।
অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব্যবহার করছি।
চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো। এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, বিজয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution