
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের এক বছর পার হলেও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার সড়কের সংস্কারকাজ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের টালবাহানায় থমকে থাকা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়। বাজারের ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সড়কের দুরবস্থা তাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে মারাত্বকভাবে ব্যাহত করছে। সাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটি একেবারে কাদায় ডুবে যায়। তখন হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা এলাকার মহিবুল সরকার বলেন, রানীগঞ্জ বাজার আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ বাজার হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী এই বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ভ্যান-রিকশা চলতে চায় না, এতে আর্থিক ক্ষতি স্বীকার হচ্ছে তারা।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে, রানীগঞ্জ বাজারের মন্দির মার্কেট থেকে করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাট ব্রিজ অতিক্রম করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত পর্যন্ত ৪ হাজার ২শ ৫০ মিটার বা প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সড়কটির ‘রি-সিল’ পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়নের জন্য ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ‘মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।
পুরনো পিচ অপসারণের কার্যক্রম কয়েকদিন চললেও অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এরপর থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে কাজ শুরু না কওে সময়ক্ষেপণ করে আসছে। বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অবগত করা হয়েছে।
আমরা দ্রুত কাজ শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু না করায় ইতিমধ্যে কয়েকবার মৌখিক ও লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পক্ষান্তরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় এবং কাজ শুরু না করায় টেন্ডারটি বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাতিল হয়ে গেলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়সূত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধারের নাম শুধু সিদ্দিক জানতে পারলেও যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিতে পারেনি। অপরদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন তার নাম জানা নাই।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution