
টানা বৃষ্টি ও সপ্তাহ ব্যাপি দুর্যোগ পূর্ণ আবহওয়ার মুখে উঠতি ইরি-বোরো ধান ও ভূট্টা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পার্বতীপুরের কৃষকরা। কোন কোন জমির ধান জলমগ্ন জমিতে মাটির সাথে লেপ্টে পড়েছে। কোনটি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে যেসব কৃষক ধান ও ভুট্টা ঘরে তুলেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সে সব ধান ও ভুট্টা রোদে শুকাতে পারেননি। সেগুলোতে ইতিমধ্যে শেকড় ও চারা গজাতে শুরু করেছে। কোন কোন গুলো থেকে পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কিভাবে সেগুলো শুকানো যায়, এনিয়ে কৃষকরা কোন কুল কিনারা খুজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, মাঠে থাকা বিশেষ করে তুলনা মূলক নিম্ম অঞ্চলের ইরি-বোরো ধান ক্ষেত জলমগ্ন হয়েছে। এসব ক্ষেতের বৃষ্টির পানি দ্রুত না সরলে জমিতেই চারা গজানোর আশংক করছেন শংকিত কৃষকেরা। ভুট্টা ক্ষেতের অবস্থা নিয়ে একই ভাবে উদিগ্ন তারা। এমন কোন ভুট্টা ক্ষেত নেই যেটা টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ভুট্টা ক্ষেতে দমকা হাওয়া মোচাসহ ভুট্টার গাছ ভেংগে পড়ছে। এতে ফসলহানির শংকা বাড়ছে। দ্রুত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি না হলে কৃষকরা আরও ক্ষতির আশংকা করছেন। এব্যাপারে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাক আহম্মেদ (৩৬) বলেন, ৫দিন ধরে মিনিকেট ধান পানির নিচে ডুবে আছে।
বৃহস্পতিবার ৬ কৃষি শ্রমিক নিয়ে আমি নিজেও জমির আধা-পাকা ইরি-বোরো ধান কাটছি। আগে এক বিঘা (৬০ শতক) জমির ধান কাটতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগতো। সেখানে বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাজার মজুরি দিতে হচ্ছে। মন্মথপুর ইউনিয়নের দাড়ামপাড়া গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক (৩৮) জানান, গত (২৪ এপ্রিল) শুক্রবার দেড় বিঘা ঝমির ভূট্টা ভেংগেছি। এখনও রোদে শুকাতে না পেরে সেগুলো গজাতে শুর করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিসংখ্যান জানতে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিব হুসাইন বলেন, এবছর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১৫ হেক্টরের মতো ইরি-বোরা ধান ক্ষেত এবং ৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত বৃষ্টির পানি ও ঝড়ো হওয়ায় জলমগ্ন হয়েছে। তবে, কৃষকদের অভিমত ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান শতাধিক হেক্টরের কম নয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution