
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম এর রাজারহাট উপজেলায় টানা কয়েকদিনের ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ করে ফলানো পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম ও স্বপ্ন।দু’চোখ দিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নাই তাদের।
ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে উপজেলার শতশত কৃষক পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এবছর প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। অনেক জমিতে ঝড়ে ধানের শীষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
এতে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পুরো মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তারা ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু ভেস্তে গেছে। কৃষক বুলু মিয়া বলেন,অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করে ছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কি করবো বুঝতে পারছি না।
কৃষক জাহেরুল ইসলাম বলেন,টানা ঝড়-বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ধান কাটার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এখন সেই ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। লোন করে চাষাবাদ করছিলাম, এখন সেই টাকা কীভাবে শোধ করবো জানি না। স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। প্রণোদনা, উন্নত বীজ ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু জমির ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution