
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে গর্ভবতী নারীদের জন্য নির্ধারিত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রটি নামমাত্র চালু থাকলেও দায়িত্বরত মিডওয়াইফ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন না, ফলে ব্যাহত হচ্ছে মাতৃস্বাস্থ্য সেবা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের কয়েক শ’ গর্ভবতী নারী নিরাপদ মাতৃত্বসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রসবপূর্ব চেকআপ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও জরুরি সেবা না পেয়ে তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে কষ্টসাধ্য। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তাদের একমাত্র ভরসা হওয়ার কথা থাকলেওমিডওয়াইফের অনুপস্থিতিতে সেবাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কাগজে-কলমে সেবা চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে না তার প্রতিফলন। সেবা নিতে এসে ভুক্তভোগী গর্ভবতী নারী ফারহানা বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে চেকআপ ও পরামর্শের জন্য এসে দেখি দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ উপস্থিত নেই।
এখন বাইরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। যেখানে বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে সময় ও টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই মাতৃস্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলেন, গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চেকআপ, পরামর্শ ও জরুরি সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না। ফলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
জরুরি মুহূর্তে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ না থাকায় মা ও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে মিডওয়াইফের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কার্যক্রম সচল করা হোক, যাতে গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় মাতৃসেবা পেতে পারেন এ বিষয়ে মধুপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত মিডওয়াইফ মোতাহারা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বার্তায় তিনি জানান, “আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করি।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” এ বিষয়ে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution