
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে জেতার পর ব্যাপক সহিংসতা শুরু করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও উগ্রবাদী দল বিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা। তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের ওপর নৃশংস হামলা এবং অফিসে ভাঙচুর করছেন। এরমধ্যে কলকাতার নিউমার্কেটের গরুর মাংসের দোকানে হামলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নিউমার্কেটের ঐতিহাসিক হগ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার নিয়ে আসেন বিজেপির উগ্র কর্মীরা।
তারা সেখানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন। ওই সময় সেখানে থাকা মাংসের দোকানেও হামলা চালানো হয়। অথচ বিদেশে গরুর মাংস রফতানিতে ভারত দ্বিতীয়। মুসলিমদের হয়রানি করতেই বিজেপি মাংশের দোকানে হামলা চালায়। ব্যস্ত মার্কেটে এমন ভাঙচুর দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা তখন দ্রুত তাদের দোকানের সাটার বন্ধ করে দেন। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এরপর সেখানে পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
সেখানে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা আর কোনো সহিংসতা না চালাতে পারেন সেজন্য পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। ব্যস্ত মার্কেটে বিজেপির এমন সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রী। তিনি লিখেছেন, কলকাতার ঐতিহাসিক স্থাপনা এই নিউমার্কেট। বাঙালিরা পরিবর্তনের মাঝে আনন্দ করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে মাংসের দোকানে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি এক্সে লিখেছেন, মধ্য কলকাতায়, নিউমার্কেটের কাছে পুলিশের অনুমতি নিয়ে, বিজয় উল্লাসের অংশ হিসেবে, মাংসের দোকান ভাঙার জন্য একটি বুলডোজার নিয়ে আসা হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে চেয়ে দেখেছে। বিজেপির উদ্দেশ্যে আমি বলছি, বিশ্বকে এসব চিত্র দেখতে দিন। এছাড়া, কলকাতা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নানুরে তৃণমূল কর্মীকে আবির শেখ (৪৫) নামে এক মুসলিম যুবককে বিজেপির সন্ত্রাসীরা মঙ্গলবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিজেপি কর্মীদের দায়ী করেছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দায়ী বলে দাবি করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution