
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে নিরীহ রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম (২৫) কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার বিকেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শত শত নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নিহতের মরদেহ নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমার ভাই কবরে, মার্ডার ফিরোজ কেন বাইরে। খুনিদের ফাঁসি চাই।দিতে হবে। এমন নানা শ্লোগান দেওয়া হয়। তারা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আরিফুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় নিহতের স্বজন মোস্তাফিজার রহমানসহ এলাকাবাসীরা বক্তব্য দেন। নিহত আরিফুল ইসলাম পৌরশহরের পাঠানপাড়ার রেজাউল ইসলামের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। তার তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান (আখি মনি) রয়েছে। এদিকে আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা রেজাউল ইসলাম ২০জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে অপর ৫-৬জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। দুইদিনে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, জামাল বাদশা (২৪), সোহাগ মিয়া (২১) ও সোহেল রানা (২৪)।
উল্লেখ্য, কিশোর গ্যাংএর প্রধান ফিরোজ শাহ্ ওরফে মার্ডার ফিরোজের বিরুদ্ধে সরাসরি অপর তিনটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এখন ওই মামলাগুলো চলমান রয়েছে। আরিফুল হত্যাকাণ্ডসহ এখন তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে পৌরশহরের আম্বিয়ার মোড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের বলি হন নিরীহ রিকশা চালক আরিফুল ইসলাম। এর আগে, পূর্বের একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে ফিরোজ গ্রুপ ও পাঠানপাড়ার মমিনুল ইসলামের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানপাড়ার লোকজন ফিরোজ ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিশোধ নিতে ফিরোজ গ্রুপের সদস্যরা দলবল নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ রিকশাচালক আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের প্রতিবেশী বাবুল মিয়া বলেন, শুধু পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় নিরীহ আরিফুলকে হত্যা করা হয়েছে। সে খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে আরিফুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী শারমিন খাতুন তিন বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution