
বাবার দেওয়া শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে আজ বাঁশঝাড়ে আশ্রয়—নীলফামারীর ডোমারের মানসিক ভারসাম্যহীন ময়নুলের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তারই আপন চাচার বিরুদ্ধে। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা—মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
জানা গেছে,নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুজুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল। একসময় ছিলেন সুস্থ-স্বাভাবিক, ছিল সংসার, ছিল স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে ভেঙে যায় তার জীবন। স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে বাবার কাছ থেকে হেবা বিল ওয়াজের মাধ্যমে পাওয়া ১০ শতক জমি কৌশলে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন তারই চাচা কছির উদ্দিন। অথচ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কীভাবে জমি রেজিস্ট্রি করলেন—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
ময়নুলের বাবা বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মামলার প্রক্রিয়া চলাকালেই ২০২০ সালে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়ে যায়।
শুধু জমিই নয়, অভিযোগ রয়েছে—ময়নুলের বসতঘরও ভেঙে দেওয়া হয়। আশ্রয় মেলে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে। সেখানেই ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-শীত মাথায় নিয়ে দিন কাটছে তার। কখনো মানুষের বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে, কখনো কারও দেওয়া খাবারেই চলছে তার বেঁচে থাকা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ময়নুলের চাচা কছির উদ্দিন কোনো বক্তব্য না দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
এদিকে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন ফায়ার সার্ভিসে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত একজন সরকারি কর্মচারী বলে জানা গেছে। তার ছেলে আঃ ছালামও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়নুলের অস্থায়ী আশ্রয়ের ত্যানা-বিছানা ও চাটিও রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিনুর ইসলাম সুজন এবং ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম ময়নুলের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এলাকার মসজিদের ইমাম ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ডোমার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “মানসিক ভারসাম্যহীন কোনো ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রির সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি এবং ময়নুলের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একজন অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেওয়ার এই অভিযোগ এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ময়নুল কি ফিরে পাবেন তার বাবার দেওয়া শেষ সম্বল? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution