
প্রায় দেড় যুগ ধরে নামে বেনামে এক আ’লীগ (কাযর্ক্রম নিষিদ্ধ) নেতার দখলে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নেওয়া অসুস্থ রোগীদের খাবার সরবারাহের ঠিকাদারী। সেই ঠিকাদার হচ্ছে রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও হোসেনগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি হেদায়তুল্লাহ। এছাড়াও তিনি বর্তমানে হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হেদায়তুল্লাহ তার নামসহ বিভিন্ন নামে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার সরবারাহের ঠিকাদারী তার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, তিনি দরপত্র আহবানের সময় বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে যে কোন মুল্যই তার আয়ত্তে দরপত্রের কাজ নিয়ে নিতেন।
পরে নির্ন্মমানের খাবার সরবারহ করে তা পুষিয়ে নেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর দরপত্র আহ্বান করা হলেও নানা কৌশল, মামলা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে প্রশাসনিক জটিলতায় দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে। ঠিকাদার হেদায়তুল্লাহ খাবার সরবারহের দরপত্র নিজের কবজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার কারণে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হলেও পূর্বের ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে হেদায়েতুল্লাহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে এই কাজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার এবং পরিমাণে কম খাবার সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দুদুক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদের পর থেকে হেদায়েতুল্লাহ ৪-৫ জনের নামে দরপত্র ক্রয় করে আবার নিজে তা জমা দেন। ফলে যেকোনো একটি নামের মাধ্যমে কাজটি তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তার প্যানেলের সোলাইমান নামের একজন ঠিকাদার কাজটি পান। পরবর্তী বছরে দরপত্র হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পরিকল্পিতভাবে আরেক ঠিকাদার আব্দুল মান্নানকে দিয়ে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর আগে সঠিক প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান করা হলে হেদায়েতুল্লাহ অংশ নিয়েও কাজ পাননি। পরে তিনি তার মেয়ের জামাই আব্দুল মান্নানকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করান। সেই মামলার সুযোগ নিয়ে এখনো আগের ঠিকাদারের নামে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনির হোসেন দাবী করেন ঠিকাদার খাবার সরবারহে অনিয়ম করছেন। তিনি আরও জানান, অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তাকে বারবার দরপত্র পাইয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বর্তমানে খাবার সরবারহের ঠিকাদার হেদায়েতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ঠিকাদার দাবি করে জানালেন, আমি বহু বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। পরে তিনি বিস্তারিত কিছু না বলে ফোন কেটে দেন। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে দরপত্র আহ্ববানের সময় দায়িত্ব থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও তৎকালীন দরপত্র কমিটির সভাপতি চিকিৎসক. আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেছেন, “মামলার কারণে চূড়ান্ত দরদাতার নাম অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি।
বিষয়টি এখনো বিচারাধীন, তাই পুনরায় সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।”বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিসক. কামাল আহামেদ জানালেন সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। যোগদানের পর জানতে পেরেছি, মামলা জটিলতায় দরপত্র প্রক্রিয়া আটকে আছে। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলায় পাঠানো হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন চিকিৎসক. আনিছুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মামলা চলমান থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution