
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। ফিফা এবার ফাইনালের সবচেয়ে দামী টিকিটের মূল্য প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ৩২ হাজার ৯৭০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই ম্যাচের ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি-১’ টিকিট বৃহস্পতিবার ফিফার ওয়েবসাইটে এই নতুন দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়। এর আগে একই শ্রেণির টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার।
বিশ্বকাপের টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য নেলি পাউ ও ফ্র্যাঙ্ক প্যালোন জুনিয়র। নিউ জার্সির এই দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি দিয়ে টিকিট বিক্রির ‘অস্বচ্ছ’ নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছেন। চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে ফিফা অস্পষ্ট মূল্যনীতি, পরিবর্তিত নিয়ম এবং বিভ্রান্তিকর পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য টিকিট পাওয়া কঠিন করে তুলছে।’
তাদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ যেন কেবল ধনীদের বিনোদনে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে ফিফাকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। তবে টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছেন ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনো। ক্যালিফোর্নিয়ায় মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজার বুঝে মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিনোদন খাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি। তাই বাজারদর অনুসরণ করতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি খুব কম দামে টিকিট বিক্রি করি, তাহলে সেগুলো পুনরায় বিক্রি হয়ে আরও বেশি দামে বাজারে চলে যাবে। এখনো অনেক টিকিট আমাদের নির্ধারিত দামের দ্বিগুণেরও বেশি দামে পুনর্বিক্রি হচ্ছে।’
ফিফার পুনর্বিক্রয় মার্কেটপ্লেসে ফাইনালের টিকিট বৃহস্পতিবার ৮ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার পর্যন্ত মূল্যেও তালিকাভুক্ত ছিল। সবচেয়ে বেশি দামের টিকিটটি ছিল স্টেডিয়ামের ওপরের সারির একটি আসন। যদিও ইনফ্যান্তিনো এ নিয়ে খানিকটা রসিকতা করে বলেন, ‘যদি কেউ সত্যিই ২০ লাখ ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনেন, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে হটডগ আর কোক পৌঁছে দেব।’ শুধু ফাইনাল নয়, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও বেশ চড়া। ১৪ জুলাই টেক্সাসের আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সেমিফাইনালের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১১ হাজার ১৩০, ৪ হাজার ৩৩০, ৩ হাজার ৭১০ এবং ২ হাজার ৭০৫ মার্কিন ডলার। আর পরদিন আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার ৬৩৫, ৩ হাজার ৫৪৫ এবং ২ হাজার ৭২৫ ডলারে।
১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫, ১ হাজার ৯৪০ এবং ১ হাজার ১২০ ডলার। এছাড়া ১৯ জুন সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭১৫ ডলার। আর ২৫ জুন তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ২ হাজার ৯৭০, ১ হাজার ৩৪৫, ৯৯০ এবং ৮৪০ মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটও কয়েক হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে যাতায়াত ব্যয় নিয়েও। নিউ জার্সি ট্রানজিট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার জন্য প্রথমে ১৫০ ডলার ভাড়া নির্ধারণ করেছিল। পরে সমালোচনার মুখে সেটি কমিয়ে ১০৫ ডলার করা হয়েছে। অথচ সাধারণ সময়ে ম্যানহাটন থেকে ওই স্টেডিয়ামে ট্রেনে যাওয়া-আসার ভাড়া মাত্র ১৩ ডলারের মতো। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল পরিবহন ব্যয় কমাতে বেসরকারি অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ফাইনালও। এছাড়া ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলোর গ্রুপ ম্যাচও হবে এই ভেন্যুতে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution