
নীলফামারীতে গেল বছরে (২০২৫সালে) ৮১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ৭৯৯টি নারী নির্যাতন, ১২টি শিশু নির্যাতন ঘটনা রয়েছে এসব ঘটনায় মামলা হয় মাত্র ৯৯টি। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেন্ডার সমতা ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা-ফেসিং প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় এই তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে সভার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। এতে উল্লেখ করা হয় সহিংসতার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন ২২২টি, ভয়ভীতি ১১০টি, গৃহ নির্যাতন ৯৫টি, জমি জমা সংক্রান্ত ৭৫টি, আর্থিক ৫৪টি, যৌতুক ৫০টি, ধর্ষণ চেষ্টা ২৮টি, চুরি ছিনতাই ২৩টি, অপহরণ ১৯টি, অনলাইন হয়রানি ১৬টি, ধর্ষণ ৮টি, ইভটিজিং ৬টি এবং অন্যান্য ৬টি।
ডেমক্রেসিওয়াচ’র নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন ডেমক্রেসিওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম।
নীলফামারী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) জিল্লুর রহমান, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন, সাংবাদিক নুর আলম, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান দৌলত জাহান ছবি, এ্যাডভোকেট আলপনা রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ডেমক্রেসিওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম জানান, আমরা থানা, আদালত, মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় পত্রিকা থেকে এই সংগ্রহ করি। এরচেয়ে বেশি নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে যেগুলো আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। তিনি বলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার মধ্যে নির্যাতনের দিক থেকে টুপামারী, গোড়গ্রাম, সংগলশী ও সোনারায় ইউনিয়নকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
বক্তারা বলেন, সামাজিক প্রতিরোধের অভাব, সমাজ কাঠামোয় নারীর দুর্বল অবস্থান, আইনের প্রয়োগিক দুর্বলতা, বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ও মামলার জট, রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিম সামাজিক অবস্থান ও মান সম্মানের ভয়ে অনেক ঘটনা গোপন করার কারণে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে।সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি, আইনের কঠোর প্রয়োগ, বাল্য বিয়ে রোধ, শিক্ষার হার বাড়ানোসহ পরিবার থেকে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে গুরত্বারোপ করা হয় এই সভায়।
সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী, নারী উন্নয়ন কর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্নজন এতে অংশ নেন। ডেমক্রেসিওয়াচ’র নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ জানান, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, মিডিয়া এবং সরকারি কর্মকর্তাগণের সঙ্গে জেন্ডার ভায়োলেন্সের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সুপারিশ এবং জেন্ডার সহিংসতা হ্রাস করার কৌশল নির্ধারণ ও করণীয় বিষয়ে এই পরামর্শ সভা আহ্বান করা হয়। ফেসিং প্রকল্প জেলার চারটি উপজেলায় কাজ করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution