
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মোছা. সুলতানা বেগম (৫০) নামের আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলে সংখ্যা দাড়ালো পাঁচ। আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০ জন। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে আছেন নিহতদের আত্মীয় স্বজনসহ পুরো এলাকাবাসী। নিহত মোছা. সুলতানা বেগম উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের মো. কালাম মিয়ার স্ত্রী। গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার।
তিনি বলেন, “এর আগে সকাল ১১ টার দিকে ওই নারী তার নিজ বাড়িতে মারা যান। এ নিয়ে এ পর্যন্ত তার ইউনিয়নে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকী তিনজন হলেন, বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের দুর্গা চন্দ্র চরেনর স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), কঞ্চিবাড়ী গ্রামের মৃত নাইব উদ্দিনের ছেলে মো. ফুলু মিয়া (৫৫) ও মো. মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা বেগম (৫০)। এছাড়াও ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপড়হাটী হেফাজত গ্রামের মৃত খোকা রামের ছেলে রতনেস্বর কুমার (৫৩) মারা যান জলাতঙ্কে।”
ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “তার ইউনিয়নে নারী ও শিশুসহ আরও ১০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।” ছাপড়হাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কনক গোস্বামীর সাথে। তিনি বলেন, “জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে এ মাসের গত ৮ তারিখে মারা যান রতনেস্বর। ভ্যাকসিনও নিয়েছিলেন তিনি। তবে কুকুর কামড়ানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারেননি রতনেস্বর।” সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নে বেওয়ারিশ এক পাগলা কুকুর আক্রমন করে। এতে কারও হাতে, কারও মুখে ও কারো শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত হয়। পরে তারা ভ্যাকসিন নেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন মেলেনি। পরে তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাহির থেকে ভ্যাকসিন নেন। ততক্ষণে ২৪ ঘন্টা পার হয়েছিলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাজার, রাস্তা ও বসতিপূর্ণ এলাকায় দিন-রাত অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুরের দল। প্রায়ই শিশু, নারী ও পথচারীরা কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের শিকার হলেও প্রশাসন কিংবা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বাকি আহতদের নিয়ে আতঙ্কে আছেন তারা। শঙ্কা কাজ করছে আহতদের সেবায় নিয়োজিতরা আক্রান্ত হওয়ার। রতনেশ্বরের ভাই রবিন্দ্র কুমার বলেন, কুকুর কামড়ানোর পরপরই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। সেখানে ক্ষতস্থানগুলো ড্রেসিং করেন। পর জানান ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। পরে সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানেও ভ্যাকসিন নাই বলে দেন। পরে বাধ্য হয়ে ঔষধের দোকান ও বেসরকারি হাসপাতাল সবখানেই খোঁজাখুঁজি।
কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন মেলেনি। অবশেষে বেশি দাম দিয়ে একটা ভ্যাকসিন নেই। তবে ততক্ষণে ২৪ ঘন্টা পার হয়েছিলো। দাদাকে বাচাতে পারলাম না আমরা বলেউ হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন রাবিন্দ্র চন্দ্র। এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোজাম্মেল হকের সাথে। তিনি বলেন, “গত তিন বছরে বেওয়ারিশ কুকুরের কোনো ভ্যাকসিন বরাদ্দ আসেনি এ উপজেলায়। তবে পোষা কুকুরের জন্য কিছু ভ্যাকসিন পেয়েছিলাম। সেগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।” এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দিবাকর বসাকের সাথে।
তিনি বলেন, “গত মাসে ২২ তারিখে কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে ওই দুই ইউনিয়নে। ২৩ তারিখ থেকে চেক দিয়েছি। এ ধরনের কোনো ব্যাক্তি চিকিৎসা নিতে আসেননি আমাদের এখানে। তাছাড়া ভ্যাকসিনও ছিলো না আমাদের। তবে সপ্তাহ খানেক হবে ১৫ হাজার টাকা পেয়েছি ভ্যাকসিন বাবদ। সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution