
একসময় যে জমিতে ফসল ফললেও কৃষকের মুখে হাসি ফুটত না, আজ সেই জমিই হয়ে উঠেছে আশার আলো। মাঠজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিএডিসি হাইব্রিড-৩ (বি-৩৩৫৫) ভুট্টার গাছ যেন জানিয়ে দিচ্ছে গ্রামের অর্থনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক বিপ্লব। সোনালি দানার এই ফসল এখন শুধু কৃষকের আয়ের উৎস নয়, এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন পূরণের গল্প।
ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের কৃষকেরা ছুটে যান ভুট্টা ক্ষেতে। দিন কাটে পরিচর্যা, সেচ আর ফসল তোলার ব্যস্ততায়। কয়েক বছর আগেও যাদের সংসারে ছিল অভাব-অনটন, তারা এখন স্বাবলম্বিতার পথে হাঁটছেন। ধানের লোকসান আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাশ কৃষকেরা এখন হাইবিড ভুট্টাতেই খুঁজে পেয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বালুরগ্রাম এলাকায় হাইব্রিড ভুট্টা-৩ (বি-৩৩৫৫) বীজ ফসলের প্রচার ও প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএসডিসি) উদ্যাগে ‘ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন রৌমারী-রাজীবপুরের ৩৩ বীজ ডিলার ও ২৫জন কৃষক।
রৌমারীর বালুরগ্রাম এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে ছয় প্যাকেট হাইব্রিড ভুট্টা বীজ চাষ করে ৮৫ মণ ভুট্টা পেয়েছেন। বাড়িতে বিক্রি করলে এক হাজার ৫০ টাকা বিক্রি করতে পারেন আর বাজারে বিক্রি করলে এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বিক্রি করতে পারেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হাইব্রিড ভুট্টার দানা ভালো, বাতাসেও মাটিতে পরেনি।
একই এলাকার কৃষক শাহিন আলম বলেন, তিনি বিএডিসির হাইব্রিড ভুট্টা-৩ এর ছয় কেজি বীজ এক বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এতে এক বিঘায় ভুট্টার ফলন পেয়েছেন ৮৫-৯০ মণ। তিনি আরও বলেন, এই হাইব্রিড বীজ অনেক ভালো বীজ। ভালো ফলন পাওয়া যায়। এই বীজের গাছ অনেক শক্ত, দানা অনেক মজমুদ, পুষ্ট দানা। তাই সবাইকে হাইব্রিড ভুট্টার বীজ চাষ করার জন্য উৎসাহ দেন তিনি।
আরেক কৃষক রাকিবুল রহমান বলেন, তিনি প্রথমে এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার পাঁচ কেজি বীজ দিয়ে চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন পেয়েছেন ৮৫-৯০ মণ ভুট্টা। তিনি আরও বলেন, এসব ভুট্টা মণ প্রতি বাড়িতে বিক্রি করেন এক হাজার টাকা। বাজারে বিক্রি করলে পান এক হাজার ১০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কম সময়ে বেশি ফলন আর বাজারে ভালো দামের কারণে হাইব্রিড ভুট্টা এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদনও হচ্ছে আশাতীত। কৃষকেরা বলছেন, ধানের তুলনায় এই চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। তাই প্রতিবছর বাড়ছে ভুট্টা আবাদি জমির পরিমাণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাকা বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক (বীউ) হুমায়ুন কবীর বলেন, এই হাইব্রিড ভুট্টা রোগ প্রতিরোধে সম্পন্ন, প্রতিকূল আবহাওয়াও হতে পারে, গাছটি হেলেও পরে না। যত ঝড়-বৃষ্টি হোক তবুও দাঁড়িয়ে থাকে। যার ফলন অনেক বেশি হয় এবং কৃষকরা বিক্রি করে অনেক লাভবান হন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক (বীবি) প্রিয়তোষ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ, জামালপুর বিএডিসির ইপপরিচালক (কে.গ্রো.) সঞ্জয় রায়, রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া, জামালপুর বিএডিসির সহকারী পরিচালক (বীউ) বিশ^ কুমার সাহা। এছাড়াও উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জামালপুর বিএডিসির উপপরিচালক (বীউ) শাহিনুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution