

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গবাদিপশুর মারাত্মক সংক্রামক ল্যাম্পি স্কিন রোগ ব্যাপক আকার ধারন করেছে। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আক্রান্ত গরুর তুলনায় সরকারি ভাবে এলএসডিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ কম হওয়ায় হিমসিম খাচ্ছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ। এ বছরে মাত্র সাড়ে ৬হাজার গরুকে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভ্যাকসিন(এলএসডি) দেয়া সম্ভব হয়েছে। যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গরুর মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় খামার খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।
উপজেলার ০৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ রোগের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ খামারের গরুই ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। প্রতিষেধক সহজলভ্য না হওয়ায় অনেক খামারি বাধ্য হয়ে পল্লী পশুচিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা, নিম্নমানের ওষুধ প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। খামারিরা জানান, গত ৫থেকে ৯মে পর্যন্ত চাকিরপশার ইউনিয়নের চকনাককাটি গ্রামে সুশীল মন্ডল, ভগলু মিয়া ও শৈলেন মন্ডলের ১টি করে গরু মারা গিয়েছে , চাকিরপশার পাঠক গ্রামের শিব শংকর মন্ডলের ২টি গরু, পদ্দানটারী গ্রামের আ. সালামের ২টি গরু, বোতলার এলাকায় মিল্টনের ১টি গরু এ রোগে মারা যায়।
এছাড়া আমিন বাজার এলাকায় ৬টি গরু, নাজিমখান চেংপাড়া এলাকায় ৩টি গরু, বুড়ারপাট এলাকায় ৩টি গরু, তালুক সাকোয়া গ্রামে ৪টি, বোতলার পাড় ছাটমল্লিকবেগ এলাকায় ৪টি গরু, গোবর্ধন দোলায় ১০টি গরু, ছিনাই এলাকায় ৫টি গরুসহ গত এক মাসে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খামার ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় শতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া গরুর অধিকাংশ বাছুর।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজারহাটে সরকারিভাবে ৫৫৫টি খামারে প্রায় ৪০ হাজার ৪২২টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ৪ থেকে ৫ হাজার ছোট-বড় খামারে কয়েক লাখ গরু পালন করা হয়। যা থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ দুধ ও মাংস সরবরাহ করা হয়।
খামারি জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগ মশা ও মাছির কারণে হচ্ছে। এসময় মশা ও মাছির দাপট বেশি। সরকারিভাবে মশা-মাছি দমনের ব্যবস্থা নেই। দমন করতে পারলে এ রোগ ছড়াতে পারতো না।এছাড়া সরকারিভাবে ওষধ সরবরাহ না থাকায় বাজারের ল্যাম্পি স্কিন রোগে নিম্নমানের ওষূধ ব্যবহার করায় গরু সুস্থ না হয়ে মারা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রবিবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী জানান, “ল্যাম্পি স্কিন রোগ বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটি মূলত মশা, মাছি ও সুচের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত গরুকে আলাদা করে মশারির মধ্যে রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খামারিদের দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution