
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে নিহত নিরীহ রিকশা-ভ্যানচালক আরিফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রংপুর-পার্বতীপুর সড়ক অবরোধ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বদরগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ করেন। অবরোধে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময় প্রতিবাদকারীরা ওসি অপসারণ দাবী করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আরিফুল ইসলামের বাবা রেজাউল ইসলাম, চাচা মোস্তাফিজার রহমান, সিরাজুল ইসলাম, নিহতের স্ত্রী শারমিন বেগম স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে আরিফুলের মা আদো বেগমও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ওসি সাহেব টাকা নিয়ে আসামীদেরে গ্রেপ্তার করছে না। যদি ঘুষ লাগে বলুক। জমি বিক্রি করে ওসিকে টাকা দেবো। তবুও হত্যাকারী মার্ডার ফিরোজের গ্রেপ্তার চাই। অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমার ছেলে নিরীহ ছিল। জীবিকার জন্য ভ্যান চালাত। তাকে নির্দয়ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।’ এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিদ্যুত মজুমদার শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা থেকে বিরত রাখার জন্য অনরোধ করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তার কথা শুনেনি। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিক্ষোভকারীরা আল্টিমেটাম দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে বিকেলে বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আরিফুল ইসলামকে প্রতিপক্ষের সদস্য সন্দেহে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) পৌরসভার পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন।
জানা যায়, ঘটনার দিন গত ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ফিরোজ। সেখানে অপর পক্ষের মমিনুলের সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও বদরগঞ্জে ফেরার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিশোধ নিতে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে শুরু করে। পরে ৫ মে বিকেল চারটার দিকে বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড়ে মার্ডার ফিরোজ গ্রুপ প্রতিপক্ষের সদস্য মনে করে আরিফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী। কিন্তু পুলিশের গড়িমসির কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বাদীর দাবি। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, ‘ঘটনায় জড়িত এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution