

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এবার চায়না-৩ ও মাদ্রাজী জাতের লিচুর ফলন ভালো হলেও অন্যান্য জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি এ রসালো ফল।
বুধবার (২০ মে) সরেজমিনে উপজেলার সর্ববৃহৎ রানীগঞ্জ বাজার, ঘোড়াঘাট পৌরবাজার, ডুগডুগিহাট, ওসমানপুর বাজার ও হরিপাড়াহাট ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় বাগানের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও লিচু আসতে শুরু করেছে। বিক্রেতারা বাঁশের ঝুড়ি ও ডালায় সাজিয়ে বিভিন্ন জাতের লিচু বিক্রি করছেন। বর্তমানে মাদ্রাজী জাতের লিচু প্রতি ‘শ’ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অপরদিকে বোম্বাই ও বেদানা জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানান তারা। বিক্রেতারা জানান, বাজারের সব থেকে চাহিদাসম্পন্ন চায়না ৩ আসতে আরও কমপক্ষে ১ মাস সময় লাগবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৬৭ হেক্টর জমিতে ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রায় ১২৭টি বাগানে লিচু চাষ হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাগানগুলোতে চায়না-৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলার কুলানন্দপূর গ্রামের লিচু চাষি আরিফুল করিম রুবেল জানান, আমার প্রায় ৪ বিঘা জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চায়না ৩ ও মাদ্রাজী জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে অন্যান্য যেমন বোম্বাই ও বেদানা জাতের লিচুর ফলন যাতে ভবিষ্যতে ভালো হয় সেই ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি কৃষি অফিস থেকে। একইভাবে পৌরসভার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে লিচু চাষী জাহাঙ্গীরও বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সবধরনের পরামর্শ পাচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে চায়না ৩ ও মাদ্রাজী ছাড়াও অন্যান্য জাতের ফলন হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা আক্তার বলেন, “আবহাওয়া ও প্রকৃতিগত কারণে অন্যান্য জাত যেমন বোম্বাই ও বেদানা লিচুর চাষ হলেও তুলনামূলক কম ফলন হয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত আধুনিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচুর সুনাম ধরে রাখতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এবার কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন ও ভালো দাম পাবে বলে আমরা আশা করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান জানান, মাদ্রাজী ও চায়না-৩ জাতের লিচুর ফলন এবার ভালো হয়েছে। তবে লিচুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ‘অল্টারনেট বেয়ারিং’। এর কারণে এক বছর ভালো ফলন হলেও পরের বছর ফলন কমে যায়। তবে 'অল্টারনেট বেয়ারিং' বৈশিষ্ট্য বোম্বাই, বেদেনা জাতের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, 'অল্টারনেট বেয়ারিং' কিছুটা কমানো সম্ভব নিয়মিত সেচ, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ডাল ছাঁটাই ও রোগবালাই দমনের মাধ্যমে। পাশাপাশি গাছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও ফুলের সময় বিশেষ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
এবার লিচু চাষিরা দাম কেমন পাবে প্রসঙ্গে কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান জানান, গত কয়েক বছর ধরেই দেখা গেছে রমজান মাসের সময় লিচু বাজারে আসত। তখন মানুষ সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে নানা ধরনের খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকত, ফলে লিচুর চাহিদা কম থাকত। তবে এবার রমজানের অনেক পরে লিচু সংগ্রহ শুরু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- মোঃ হযরত আলী, নির্বাহী সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান
বার্তা সম্পাদক- এস এম ইকবাল সুমন । অফিস- গোমস্তাপাড়া, রংপুর-৫৪০০ । মোবাইল- ০১৮৯৬ ৪৩২৭০১
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী | Developed BY Rafi It Solution